পাম্পে তেল নেই বলতেই চটে গেলেন চালক, এরপর যা ঘটলো তা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
- আপডেট সময় ১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 46
নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকায় তেল না পেয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় পিষে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশনের পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সর্দার (৩০) তুলারামপুর এলাকার মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার এবং ওই ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে। এই ঘটনায় জিহাদুল ইসলাম নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিমউদ্দীন জানান, দিবাগত রাতে ট্রাকচালক মো. সুজাত পাম্পে তেল নিতে আসেন। তবে স্টেশনে তেল মজুদ না থাকায় ম্যানেজার নাহিদ সর্দার তাকে তেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
পাম্পের কর্মচারী মো. সোহান ইসলাম বলেন, “নাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে ওই ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হওয়ার সময় সুজাত ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ট্রাকচাপার হুমকি দেয় এবং পাম্পেই অবস্থান করতে থাকে।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে কাজ শেষ করে নাহিদ তার বন্ধু জিহাদুলকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তখন চালক সুজাতও ট্রাক ঘুরিয়ে তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ক্যাশিয়ার জসিমউদ্দীন ও কর্মচারী সোহান মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকটি অনুসরণ করেন।
সোহান আরও জানান, কিছুদূর যাওয়ার পর তারা দেখেন সুজাত তার ট্রাক দিয়ে নাহিদদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ সর্দার নিহত হন। গুরুতর আহত জিহাদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার বলেন:
“ট্রাক ড্রাইভার সুজাত পরিকল্পিতভাবে হুমকি দিয়ে আমার ভাইকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নড়াইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দার আলী জানান, ঘাতক ট্রাক ও চালক সুজাতকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























