ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ঈদের ছুটিতেও স্বস্তি নেই শিশু হাসপাতালে, হামের প্রাদুর্ভাবে উপচে পড়া ভিড়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / 175

ছবি সংগৃহীত

 

ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন উৎসবের আমেজে মগ্ন, তখন ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। করিডোর জুড়ে শিশুর কান্না, অক্সিজেনের সোঁ সোঁ শব্দ আর উদ্বিগ্ন মা-বাবার অপেক্ষায় হাসপাতালের পরিবেশ ছিল থমথমে। এবারের ছুটিতে সাধারণ রোগের চেয়ে ‘হাম’-এর প্রাদুর্ভাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে বাধ্য করেছে।

হামের ভয়াবহতা ও আইসোলেশন সংকট
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৫ মার্চ পর্যন্তই ২৩ জন শিশু হাম নিয়ে ভর্তি ছিল। অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ ছড়ানো ঠেকাতে পিআইসিইউ সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত ২ নম্বর ওয়ার্ডটিকে জরুরি ভিত্তিতে ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। ১০টি বেড দিয়ে শুরু হলেও রোগীর চাপে বর্তমানে সেখানে ১৪টি বেড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক জানান, হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক শিশুকে আইসিইউ সাপোর্টও দিতে হচ্ছে।

ছুটিতেও থামেনি রোগীর চাপ
সরকারি ছুটির মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে ২০০-এর বেশি শিশু জরুরি বিভাগে সেবা নিতে এসেছে। গত বুধবার এক দিনেই এই সংখ্যা ছিল ৩২২ জন। নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এদের মধ্যে হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি।

জনবল ও বাজেটের তীব্র সংকট
হাসপাতালটি বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। যেখানে চারজন চিকিৎসকের প্রয়োজন, সেখানে একজনকে দিয়ে শিফট চালাতে হচ্ছে। ১৩০ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ায় বর্তমানে মাত্র ৬৫ জন নতুন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনের অনুপস্থিতি এবং নষ্ট ব্রঙ্কোস্কপি মেশিনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা।

অর্থনৈতিক টানাপোড়েন
স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখেও পড়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ বাড়ার বদলে উল্টো ২ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। হাসপাতালের ৪০ শতাংশ রোগী বিনামূল্যে সেবা পেলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটছে না। ৩৪০ কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প বর্তমানে একনেক ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামকে সাধারণ ফুসকুড়ি ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। দেশের বৃহত্তম এই শিশু হাসপাতালে দ্রুত আইসোলেশন বেড বৃদ্ধি এবং জনবল নিয়োগ না দিলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদের ছুটিতেও স্বস্তি নেই শিশু হাসপাতালে, হামের প্রাদুর্ভাবে উপচে পড়া ভিড়

আপডেট সময় ০৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

 

ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন উৎসবের আমেজে মগ্ন, তখন ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। করিডোর জুড়ে শিশুর কান্না, অক্সিজেনের সোঁ সোঁ শব্দ আর উদ্বিগ্ন মা-বাবার অপেক্ষায় হাসপাতালের পরিবেশ ছিল থমথমে। এবারের ছুটিতে সাধারণ রোগের চেয়ে ‘হাম’-এর প্রাদুর্ভাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে বাধ্য করেছে।

হামের ভয়াবহতা ও আইসোলেশন সংকট
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৫ মার্চ পর্যন্তই ২৩ জন শিশু হাম নিয়ে ভর্তি ছিল। অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ ছড়ানো ঠেকাতে পিআইসিইউ সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত ২ নম্বর ওয়ার্ডটিকে জরুরি ভিত্তিতে ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। ১০টি বেড দিয়ে শুরু হলেও রোগীর চাপে বর্তমানে সেখানে ১৪টি বেড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক জানান, হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক শিশুকে আইসিইউ সাপোর্টও দিতে হচ্ছে।

ছুটিতেও থামেনি রোগীর চাপ
সরকারি ছুটির মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে ২০০-এর বেশি শিশু জরুরি বিভাগে সেবা নিতে এসেছে। গত বুধবার এক দিনেই এই সংখ্যা ছিল ৩২২ জন। নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এদের মধ্যে হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি।

জনবল ও বাজেটের তীব্র সংকট
হাসপাতালটি বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। যেখানে চারজন চিকিৎসকের প্রয়োজন, সেখানে একজনকে দিয়ে শিফট চালাতে হচ্ছে। ১৩০ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ায় বর্তমানে মাত্র ৬৫ জন নতুন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনের অনুপস্থিতি এবং নষ্ট ব্রঙ্কোস্কপি মেশিনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা।

অর্থনৈতিক টানাপোড়েন
স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখেও পড়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ বাড়ার বদলে উল্টো ২ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। হাসপাতালের ৪০ শতাংশ রোগী বিনামূল্যে সেবা পেলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটছে না। ৩৪০ কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প বর্তমানে একনেক ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামকে সাধারণ ফুসকুড়ি ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। দেশের বৃহত্তম এই শিশু হাসপাতালে দ্রুত আইসোলেশন বেড বৃদ্ধি এবং জনবল নিয়োগ না দিলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।