ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

বর্ষার শুরুতেই যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন, দিশেহারা শতাধিক পরিবার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 745

ছবি সংগৃহীত

 

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভয়াবহ নদীভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীপাড়ে। গত এক মাস ধরে টানা ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ২০টি বসতঘর ও অর্ধশতাধিক বিঘা ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে একটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক পরিবার। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে পুরো গ্রামই যমুনায় হারিয়ে যেতে পারে।

বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চর বক্তারপুর গ্রামে প্রায় দুই যুগ ধরে যমুনার তীরে বসবাস করছেন কৃষক হানিফ শেখের স্ত্রী আক্তার বানু। তাঁর জীবনে বর্ষা মানেই উদ্বেগ আর আতঙ্ক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীপাড়ে বসে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আক্তার বানু। তিনি বলেন, “গত তিন বছরে তিনবার আমাদের ঘর ভেঙে গেছে। এবারও কুরবানির ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ভাঙনের ভয়। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি, কখন যে আবার নদী ভাঙে!”

আরও পড়ুন  ভারতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: যাত্রীসহ বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের আশঙ্কা

আক্তার বানুর মতো একই দুর্দশায় পড়েছেন চর বক্তারপুর, বক্তারপুর, চর বুড়ামারা, সিংহাসন ও আগবাকশো গ্রামের হাজারো মানুষ। তাদের অভিযোগ, বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন করে গড়তে পারছেন না অর্থাভাবে। অনেকেই বাড়িঘর খুলে রেখেছেন, আবার কেউ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

চর বক্তারপুর গ্রামের বেল্লাল শেখ ও সেকেন বিশ্বাস জানান, কুরবানির ঈদের দিনই নদীতে বিলীন হয় কয়েকটি ঘরবাড়ি। বর্ষা এলেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। শাজাহান আলী, নাদের শেখ ও মামুন শেখ জানান, অন্তত ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। আগে যেখান থেকে নদী ছিল আধা কিলোমিটার দূরে, এখন সেখানেই বসতঘর বানাতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এবার স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভুক্তভোগী রওশন বিশ্বাসের স্ত্রী জোসনা খাতুন বলেন, “শিশু সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটে। ঈদের দিন ঘর সরাতে হয়েছে। রান্না-বান্না, খাওয়া কিছুই হয়নি। কতবার আর ঘর সরাব?”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) হায়দার আলী বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধ করে তাদের বসতভিটা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্ষার শুরুতেই যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন, দিশেহারা শতাধিক পরিবার

আপডেট সময় ০১:০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভয়াবহ নদীভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীপাড়ে। গত এক মাস ধরে টানা ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ২০টি বসতঘর ও অর্ধশতাধিক বিঘা ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে একটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক পরিবার। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে পুরো গ্রামই যমুনায় হারিয়ে যেতে পারে।

বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চর বক্তারপুর গ্রামে প্রায় দুই যুগ ধরে যমুনার তীরে বসবাস করছেন কৃষক হানিফ শেখের স্ত্রী আক্তার বানু। তাঁর জীবনে বর্ষা মানেই উদ্বেগ আর আতঙ্ক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীপাড়ে বসে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আক্তার বানু। তিনি বলেন, “গত তিন বছরে তিনবার আমাদের ঘর ভেঙে গেছে। এবারও কুরবানির ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ভাঙনের ভয়। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি, কখন যে আবার নদী ভাঙে!”

আরও পড়ুন  ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩০ বছর বয়সে প্রাণ হারালেন অভিনেত্রী

আক্তার বানুর মতো একই দুর্দশায় পড়েছেন চর বক্তারপুর, বক্তারপুর, চর বুড়ামারা, সিংহাসন ও আগবাকশো গ্রামের হাজারো মানুষ। তাদের অভিযোগ, বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন করে গড়তে পারছেন না অর্থাভাবে। অনেকেই বাড়িঘর খুলে রেখেছেন, আবার কেউ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

চর বক্তারপুর গ্রামের বেল্লাল শেখ ও সেকেন বিশ্বাস জানান, কুরবানির ঈদের দিনই নদীতে বিলীন হয় কয়েকটি ঘরবাড়ি। বর্ষা এলেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। শাজাহান আলী, নাদের শেখ ও মামুন শেখ জানান, অন্তত ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। আগে যেখান থেকে নদী ছিল আধা কিলোমিটার দূরে, এখন সেখানেই বসতঘর বানাতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এবার স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভুক্তভোগী রওশন বিশ্বাসের স্ত্রী জোসনা খাতুন বলেন, “শিশু সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটে। ঈদের দিন ঘর সরাতে হয়েছে। রান্না-বান্না, খাওয়া কিছুই হয়নি। কতবার আর ঘর সরাব?”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) হায়দার আলী বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধ করে তাদের বসতভিটা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।