ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশ সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য সদস্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। এর ফলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের পথ আরও সুগম হলো।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গত মাসে অনুমোদনের জন্য এটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পার্লামেন্টে চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুমোদিত হয়। এরপর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে চুক্তির বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করেন আইনপ্রণেতারা।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার নতুন চুক্তি: শান্তির পথে একধাপ এগিয়ে

ভোটাভুটিতে চুক্তির পক্ষে ২৭৯টি এবং বিপক্ষে ১১৯টি ভোট পড়ে। তুরস্কের পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ৩৯৮ জন ভোট দেন।

রয়টার্সের হাতে আসা পার্লামেন্টের নথি অনুযায়ী, চুক্তিটিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে সদস্যদেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকি দূর করতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে এ বিধান কার্যকর হবে।

চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্যদেশ অন্য কোনো দেশ বা দেশের জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য সদস্যরা অবিলম্বে সহায়তা দেবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সব ধরনের ব্যবস্থা কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিরক্ষা চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোর ওই বিধান অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তুরস্কের কর্মকর্তারা অবশ্য এসব আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

চুক্তির অন্যান্য অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় সদস্যদেশগুলো যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তিটি ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। মেয়াদ শেষে সদস্যদেশগুলো চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। বিদ্যমান সদস্যদের সম্মতি নিয়ে অন্য দেশগুলোরও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিরিয়া।

তবে পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদনের অর্থ সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েন নিশ্চিত হওয়া নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেখানে তুর্কি সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের গত অক্টোবরে জানিয়েছিলেন, চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘হুথিদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের একেবারেই নেই।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হবে দেশটির প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

সূত্র: আলজাজিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন

আপডেট সময় ০৫:২৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশ সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য সদস্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। এর ফলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের পথ আরও সুগম হলো।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গত মাসে অনুমোদনের জন্য এটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পার্লামেন্টে চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুমোদিত হয়। এরপর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে চুক্তির বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করেন আইনপ্রণেতারা।

আরও পড়ুন  আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়েতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি অন্তর্বর্তী সরকার: জামায়াত আমীর

ভোটাভুটিতে চুক্তির পক্ষে ২৭৯টি এবং বিপক্ষে ১১৯টি ভোট পড়ে। তুরস্কের পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ৩৯৮ জন ভোট দেন।

রয়টার্সের হাতে আসা পার্লামেন্টের নথি অনুযায়ী, চুক্তিটিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে সদস্যদেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকি দূর করতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে এ বিধান কার্যকর হবে।

চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্যদেশ অন্য কোনো দেশ বা দেশের জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য সদস্যরা অবিলম্বে সহায়তা দেবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সব ধরনের ব্যবস্থা কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিরক্ষা চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোর ওই বিধান অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তুরস্কের কর্মকর্তারা অবশ্য এসব আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

চুক্তির অন্যান্য অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় সদস্যদেশগুলো যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তিটি ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। মেয়াদ শেষে সদস্যদেশগুলো চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। বিদ্যমান সদস্যদের সম্মতি নিয়ে অন্য দেশগুলোরও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিরিয়া।

তবে পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদনের অর্থ সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েন নিশ্চিত হওয়া নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেখানে তুর্কি সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের গত অক্টোবরে জানিয়েছিলেন, চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘হুথিদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের একেবারেই নেই।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হবে দেশটির প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

সূত্র: আলজাজিরা।