ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, লাইসেন্স ও ভাড়া নিয়ে যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 25
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে এ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে যানবাহনগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ছাড়াই চলাচল করা ই-রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থাপনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে এ নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। আর চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর নবায়ন ফি ৫০০ টাকা।
বিধিমালায় একটি ই-রিকশার সর্বোচ্চ চলাচলের মেয়াদ ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের সুপারিশ করতে সরকার সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুসারেই ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। বর্তমানে চলাচলরত যানবাহনগুলোকেও অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বুয়েটের নকশা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবে।
বিধিমালায় ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার এবং মোটর বা গাড়ির কাঠামোয় অনুমতি ছাড়া পরিবর্তন আনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় ই-রিকশা চালানো, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। ফলে এক জোনের যানবাহন অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, তা ট্রাফিক পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশন আলোচনা করে ঠিক করবে। তবে ই-রিকশার মোট সংখ্যার ওপর এখনো কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিধিমালায় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা থাকলেও আপাতত তা চালু করা হচ্ছে না। মীর শাহে আলম বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালকের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য কঠিন হবে। এ কারণে প্রথমে যানবাহন নিবন্ধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
ঢাকায় বর্তমানে ই-রিকশা চালাচ্ছেন, এমন চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার হঠাৎ করে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে না। আপাতত চালকদের আগের মতোই চলাচল চালিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে যানবাহন নিবন্ধন করা হবে এবং ধাপে ধাপে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিবন্ধন কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন নিয়ন্ত্রণেও বিধিমালায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে, তারা সিটি করপোরেশনের অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে। অন্যদিকে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব যানবাহন চার্জ দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব কার্যক্রম তদারক করবেন।
ই-রিকশার ভাড়া নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর নির্ধারণ করা হবে। যানবাহনের মালিক, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।





















