ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি : সংগৃহীত

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো, জীবাণুমুক্তকরণ ও গুণগত মান বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়াতে দেশে গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিপণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুরের ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা স্টেশনে নবনির্মিত গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো, জীবাণুমুক্ত করা এবং গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য প্রসারিত, ভারতে রপ্তানি ঊর্ধ্বমুখী, আমদানি কমছে

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমান সরকার কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আমের গুণগত মান ভালো। এসব আম গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি চীন থেকে আসা একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আম আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠালেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং ফলটির খাদ্যগুণও ভালো। তবে এসব কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার সময়োপযোগী উদ্যোগ।

কৃষিপণ্যের পচন ও অপচয় কমানো এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সুরক্ষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এসব কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি দল গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষির অর্থনীতি শক্তিশালী হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার কৃষি খাতকে সহায়তা করবে।

বিনা মহাপরিচালক ড. সারফুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ডা. জিয়াওকুন শি বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, কৃষিপণ্য পরিশোধনের জন্য পরমাণু প্রযুক্তিনির্ভর এ সেন্টারটি ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ব বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো, জীবাণুমুক্তকরণ ও গুণগত মান বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়াতে দেশে গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিপণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুরের ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা স্টেশনে নবনির্মিত গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো, জীবাণুমুক্ত করা এবং গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালির সংকটে ইরাকের তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমান সরকার কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আমের গুণগত মান ভালো। এসব আম গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি চীন থেকে আসা একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আম আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠালেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং ফলটির খাদ্যগুণও ভালো। তবে এসব কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার সময়োপযোগী উদ্যোগ।

কৃষিপণ্যের পচন ও অপচয় কমানো এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সুরক্ষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এসব কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি দল গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষির অর্থনীতি শক্তিশালী হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার কৃষি খাতকে সহায়তা করবে।

বিনা মহাপরিচালক ড. সারফুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ডা. জিয়াওকুন শি বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, কৃষিপণ্য পরিশোধনের জন্য পরমাণু প্রযুক্তিনির্ভর এ সেন্টারটি ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে।