জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১১:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতা অর্জন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা ও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাঁর বাণীটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি এবং অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
যুব উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি পায়।
তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁরা মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি আয় করছেন।
যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় যুব পুরস্কারকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি।
বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
তারেক রহমান জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণেরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণেও যুবসমাজের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণেরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন।
এ ছাড়া স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা দিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে জন্য দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
























