ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যমুনায় ডুব দিয়ে পানি দূষণমুক্ত দাবি বিজেপি এমপির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 27

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের রাজধানী দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নদীতে ডুব দিয়ে পানি পরিষ্কার বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তিনি নদীতে ডুব দেওয়ার পাশাপাশি হাত দিয়ে পানি তুলে পান করেন। তার দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেক কমেছে। তবে পরিবেশগত তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি অংশে দূষণের মাত্রা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক ওপরে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনায় ডুব দেন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এই সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি বলেন, নদীতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিই পানির মান উন্নত হওয়ার প্রমাণ। তার ভাষ্য, ‘এখানে কুমির থাকতে পারে, তবে কুমির শুধু পরিষ্কার পানিতেই থাকে।’

আরও পড়ুন  প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি

মনোজ তিওয়ারির দাবি, যমুনার পানি এখন ছটপূজায় ব্যবহারের উপযোগী। নদী পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।

এদিকে, বিজেপির দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে কাজ করেছে, কংগ্রেস ও এএপি ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। একই সঙ্গে দলটি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানায়।

এর জবাবে এএপির দিল্লি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, যমুনার পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ সব সময়ই তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এএপি সরকারের আমলে ওই অংশের পানির মান আরও ভালো ছিল।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভরদ্বাজ মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার আমন্ত্রণ জানান।

যমুনার পানির দূষণ নিয়ে এনডিটিভির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নদীর দূষণের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পানির জৈব দূষণ পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি)। পানিতে জৈব বর্জ্য ভাঙতে অণুজীবের যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তা দিয়ে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বিওডির মাত্রা যত বেশি হয়, জৈব দূষণও তত বেশি থাকে।

গোসলের উপযোগী পানির ক্ষেত্রে বিওডির গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার কম। তবে দিল্লির কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এই মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রবেশের স্থল পাল্লায় যমুনার পানিতে বিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম, যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে। তবে আইএসবিটি সেতু এলাকায় তা বেড়ে ৩০ মিলিগ্রাম এবং আইটিও এলাকায় ১৮ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যমুনায় ডুব দিয়ে পানি দূষণমুক্ত দাবি বিজেপি এমপির

আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের রাজধানী দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নদীতে ডুব দিয়ে পানি পরিষ্কার বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তিনি নদীতে ডুব দেওয়ার পাশাপাশি হাত দিয়ে পানি তুলে পান করেন। তার দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেক কমেছে। তবে পরিবেশগত তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি অংশে দূষণের মাত্রা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক ওপরে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনায় ডুব দেন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এই সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি বলেন, নদীতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিই পানির মান উন্নত হওয়ার প্রমাণ। তার ভাষ্য, ‘এখানে কুমির থাকতে পারে, তবে কুমির শুধু পরিষ্কার পানিতেই থাকে।’

আরও পড়ুন  ৫০০ কোটি রুপি নিয়ে বিজেপি-শিবসেনার দ্বন্দ্ব

মনোজ তিওয়ারির দাবি, যমুনার পানি এখন ছটপূজায় ব্যবহারের উপযোগী। নদী পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।

এদিকে, বিজেপির দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে কাজ করেছে, কংগ্রেস ও এএপি ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। একই সঙ্গে দলটি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানায়।

এর জবাবে এএপির দিল্লি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, যমুনার পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ সব সময়ই তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এএপি সরকারের আমলে ওই অংশের পানির মান আরও ভালো ছিল।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভরদ্বাজ মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার আমন্ত্রণ জানান।

যমুনার পানির দূষণ নিয়ে এনডিটিভির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নদীর দূষণের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পানির জৈব দূষণ পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি)। পানিতে জৈব বর্জ্য ভাঙতে অণুজীবের যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তা দিয়ে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বিওডির মাত্রা যত বেশি হয়, জৈব দূষণও তত বেশি থাকে।

গোসলের উপযোগী পানির ক্ষেত্রে বিওডির গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার কম। তবে দিল্লির কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এই মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রবেশের স্থল পাল্লায় যমুনার পানিতে বিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম, যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে। তবে আইএসবিটি সেতু এলাকায় তা বেড়ে ৩০ মিলিগ্রাম এবং আইটিও এলাকায় ১৮ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে।

সূত্র: এনডিটিভি