ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামের শিক্ষা
- আপডেট সময় ০২:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 21
সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত ন্যায়বিচার বা ইনসাফ। ইসলাম যে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, ইনসাফ তার অন্যতম। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও প্রকৃত শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ইনসাফ বলতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীন আচরণ করা এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়াকে বোঝায়। ইসলাম শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত ৯০)। এ নির্দেশনার মাধ্যমে ন্যায়বিচারকে ইসলামের অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ইসলামে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ, পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা কিংবা দলীয় পরিচয়কে কোনোভাবেই প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১৩৫)।
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, নিজের বা আপনজনের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেও সত্য গোপন করা যাবে না। পরিবারের কেউ অন্যায় করলে তাকে সমর্থন করা কিংবা তার অপরাধ আড়াল করাও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
কিন্তু বাস্তব সমাজে অনেক সময় অপরাধের বিচার করার ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রমাণের পরিবর্তে অপরাধী কোন পক্ষের, কার আত্মীয় কিংবা কার অনুসারী—এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। আপনজনের অন্যায় আড়াল করা হয়, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলকেও বড় করে দেখা হয়। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক মনোভাব সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা ন্যায়বিচার কর। এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ৮)।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম স্পষ্ট করেছে, কারও প্রতি ব্যক্তিগত বিরাগ, শত্রুতা কিংবা মতপার্থক্য থাকলেও তার প্রতি অবিচার করা যাবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখা এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকাই ইসলামের শিক্ষা।

























