ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

সাইবার হামলা ঠেকাতে এআই দিয়ে পরীক্ষা চালাবে জাপান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 37

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার হামলার ঝুঁকি কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রযুক্তিব্যবস্থায় আক্রমণের অনুকরণে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করেছে জাপান। এ লক্ষ্যে বিশেষ একটি দল গঠন করা হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দেশটির শিল্পমন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া। সম্ভাব্য হামলার আগেই সফটওয়্যার ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা ঘাটতি খুঁজে বের করে তা সংশোধন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা বিপুলসংখ্যক হামলার চেষ্টা চালায়। ঝুঁকি এড়াতে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে নিরাপত্তা হালনাগাদ করে।

জাপানের অন্যতম বড় মুঠোফোন অপারেটর সফটব্যাংকও তাদের জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলায় গ্রাহকেরা ওই সেবার মাধ্যমে ভূমিকম্প, সুনামি ও অন্যান্য দুর্যোগের আগাম বার্তা পাবেন না। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় ভূমিকম্পের সতর্কতা পাওয়ার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সফটব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা ৩ কোটির বেশি।

আরও পড়ুন  পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া এলাকার দিকে বর্তমানে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় চাম্পি। এ পরিস্থিতিতে সফটব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকেরা ইয়াহুর একটি অ্যাপসহ অন্যান্য সেবার মাধ্যমে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পেতে পারবেন।

শুক্রবার শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া বলেন, প্রযুক্তির নিরাপত্তায় একটি দুর্বলতা থাকলেও সেটিকে কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সফল হতে পারে। তাই শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বদলে সম্ভাব্য আক্রমণকারীর কৌশল বুঝে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এআই কাজে লাগিয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে হামলাকারীরা আঘাত হানার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়।

তবে সরকারের এই উদ্যোগকে যথেষ্ট দ্রুত বলে মনে করছেন না টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডজে করপোরেশনের প্রধান নোবুও মিওয়া। তাঁর মতে, আধুনিক সাইবার হামলার মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি অনেক পিছিয়ে। তিনি পরিস্থিতিকে বোমারু বিমানের বিরুদ্ধে বাঁশের বর্শা নিয়ে লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর টোকিও থেকে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ব্যাংক, বিমান সংস্থা, রেলওয়ে, কর বিভাগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিঘ্ন ঘটে। ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাটি বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জাপানে নোমুরা ব্রোকারেজ, মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ, বিমান সংস্থা এএনএ এবং পূর্ব জাপান রেলওয়ে তাদের কিছু অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় কর সংস্থা ও আবহাওয়া সংস্থাও কয়েকটি ডিজিটাল সেবা স্থগিত করে।

শুক্রবার পূর্ব জাপান রেলওয়ে জানিয়েছে, তাদের গ্রুপের কিছু অনলাইন সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। বাকি সেবাগুলো নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পর চালু করা হবে। অন্যদিকে রং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন পেইন্ট নিরাপত্তা সংশোধনী যুক্ত করার পর তাদের ওয়েবসাইট আবার সচল করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রোর প্রধান নির্বাহী ইভা চেনের মতে, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে। এ কারণে সাইবার অপরাধীদের কাছে সেগুলো আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। এআইয়ের উন্নতির ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও হামলাকারীদের জন্য আগের তুলনায় কম বাধা তৈরি করছে।

চেন মনে করেন, নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত আস্থা রাখার কারণে জাপানের অনেক প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এআইয়ের সহায়তায় সাইবার অপরাধীরা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যারের ত্রুটি খুঁজতে, আক্রমণের কৌশল তৈরি করতে এবং প্রতারণামূলক বার্তা ছড়াতে পারছে। এতে হামলা চালানোর সময় ও ব্যয় কমছে, পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির নির্মাতারা বুধবার এর দীর্ঘদিনের কিছু নিরাপত্তা ত্রুটির সমাধান প্রকাশ করেন। এআইয়ের সহায়তায় ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহারকারীদের দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাইবার হামলা ঠেকাতে এআই দিয়ে পরীক্ষা চালাবে জাপান

আপডেট সময় ০১:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার হামলার ঝুঁকি কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রযুক্তিব্যবস্থায় আক্রমণের অনুকরণে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করেছে জাপান। এ লক্ষ্যে বিশেষ একটি দল গঠন করা হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দেশটির শিল্পমন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া। সম্ভাব্য হামলার আগেই সফটওয়্যার ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা ঘাটতি খুঁজে বের করে তা সংশোধন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা বিপুলসংখ্যক হামলার চেষ্টা চালায়। ঝুঁকি এড়াতে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে নিরাপত্তা হালনাগাদ করে।

জাপানের অন্যতম বড় মুঠোফোন অপারেটর সফটব্যাংকও তাদের জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলায় গ্রাহকেরা ওই সেবার মাধ্যমে ভূমিকম্প, সুনামি ও অন্যান্য দুর্যোগের আগাম বার্তা পাবেন না। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় ভূমিকম্পের সতর্কতা পাওয়ার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সফটব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা ৩ কোটির বেশি।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের এআই দখলে রাখতে 'স্টারগেট' প্রকল্পে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা

ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া এলাকার দিকে বর্তমানে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় চাম্পি। এ পরিস্থিতিতে সফটব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকেরা ইয়াহুর একটি অ্যাপসহ অন্যান্য সেবার মাধ্যমে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পেতে পারবেন।

শুক্রবার শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া বলেন, প্রযুক্তির নিরাপত্তায় একটি দুর্বলতা থাকলেও সেটিকে কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সফল হতে পারে। তাই শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বদলে সম্ভাব্য আক্রমণকারীর কৌশল বুঝে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এআই কাজে লাগিয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে হামলাকারীরা আঘাত হানার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়।

তবে সরকারের এই উদ্যোগকে যথেষ্ট দ্রুত বলে মনে করছেন না টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডজে করপোরেশনের প্রধান নোবুও মিওয়া। তাঁর মতে, আধুনিক সাইবার হামলার মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি অনেক পিছিয়ে। তিনি পরিস্থিতিকে বোমারু বিমানের বিরুদ্ধে বাঁশের বর্শা নিয়ে লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর টোকিও থেকে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ব্যাংক, বিমান সংস্থা, রেলওয়ে, কর বিভাগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিঘ্ন ঘটে। ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাটি বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জাপানে নোমুরা ব্রোকারেজ, মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ, বিমান সংস্থা এএনএ এবং পূর্ব জাপান রেলওয়ে তাদের কিছু অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় কর সংস্থা ও আবহাওয়া সংস্থাও কয়েকটি ডিজিটাল সেবা স্থগিত করে।

শুক্রবার পূর্ব জাপান রেলওয়ে জানিয়েছে, তাদের গ্রুপের কিছু অনলাইন সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। বাকি সেবাগুলো নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পর চালু করা হবে। অন্যদিকে রং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন পেইন্ট নিরাপত্তা সংশোধনী যুক্ত করার পর তাদের ওয়েবসাইট আবার সচল করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রোর প্রধান নির্বাহী ইভা চেনের মতে, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে। এ কারণে সাইবার অপরাধীদের কাছে সেগুলো আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। এআইয়ের উন্নতির ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও হামলাকারীদের জন্য আগের তুলনায় কম বাধা তৈরি করছে।

চেন মনে করেন, নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত আস্থা রাখার কারণে জাপানের অনেক প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এআইয়ের সহায়তায় সাইবার অপরাধীরা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যারের ত্রুটি খুঁজতে, আক্রমণের কৌশল তৈরি করতে এবং প্রতারণামূলক বার্তা ছড়াতে পারছে। এতে হামলা চালানোর সময় ও ব্যয় কমছে, পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির নির্মাতারা বুধবার এর দীর্ঘদিনের কিছু নিরাপত্তা ত্রুটির সমাধান প্রকাশ করেন। এআইয়ের সহায়তায় ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহারকারীদের দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।