ব্যাংকখাত সংস্কারে প্রয়োজন ৪০ বিলিয়ন ডলার: অর্থ উপদেষ্টা
- আপডেট সময় ১১:০০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
দেশের ব্যাংকখাত সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর অভিযোগ, সাবেক সরকারের আমলে এই পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের ভুল নীতি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভার হলরুমে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের ভুল নীতি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। সংসারের খরচ চালাতে অনেককে সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে, এমনকি ঋণও নিতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন।
অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক এসব উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য জ্বালানির নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতের ভুল নীতির কারণে জ্বালানিনির্ভরতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল। সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও আগের সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অর্থনীতির বড় একটি অংশ অলিগার্কদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতির কারণে যুব বেকারত্ব বেড়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতির উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এ বিষয়ে কিছু ভুল ধারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ব্যাংকখাত সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন এবং সাবেক সরকারের আমলে ওই পরিমাণ অর্থ লুট হওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টার বক্তব্যের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। সভায় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন বা দাবির বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

























