ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

তুরস্ক-পাকিস্তানসহ চার দেশের ‘বদর’ চুক্তি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় সই হওয়া এই সমঝোতার আওতায় যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়াবে চার দেশ। তবে চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যদের সামরিকভাবে হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

দোহায় আয়োজিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের পক্ষে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আরও পড়ুন  ‎যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান চীন ও পাকিস্তানের

তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সমন্বয়ে এই সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আওতায় সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম সরবরাহের বাইরেও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ, সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, অংশগ্রহণকারী কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এমন কোনো আইনি অঙ্গীকার এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। এর মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। ওই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে এক দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ফলে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, নতুন সমঝোতাটি মূলত প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্ক-পাকিস্তানসহ চার দেশের ‘বদর’ চুক্তি

আপডেট সময় ০৭:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় সই হওয়া এই সমঝোতার আওতায় যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়াবে চার দেশ। তবে চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যদের সামরিকভাবে হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

দোহায় আয়োজিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের পক্ষে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্ত সমর্থনের ঘোষণা চীনের

তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সমন্বয়ে এই সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আওতায় সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম সরবরাহের বাইরেও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ, সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, অংশগ্রহণকারী কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এমন কোনো আইনি অঙ্গীকার এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। এর মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। ওই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে এক দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ফলে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, নতুন সমঝোতাটি মূলত প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।