ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার ঝুঁকিতে সতর্কতা, বন্ধ বহু ওয়েবসাইট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

ছবি : সংগৃহীত

 

বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ অথবা ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  ফের দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, সতর্কতা জারি

পিএইচপি ডেভেলপাররা ২০ অক্টোবর দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের কথা জানান। ত্রুটিগুলো সমাধানে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হলে দ্রুত তা ইনস্টল করার পরামর্শও দেন তারা। তবে নতুন সংস্করণ প্রকাশের আগেই সম্ভাব্য হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশের সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। দেশটির রটারডাম বন্দর, সরকারি পোর্টাল ওভারহেইড ডট এনএল, জাতীয় ফুটবল সংস্থা এবং পাঁচটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইটও এ পদক্ষেপের আওতায় পড়ে।

ফিনল্যান্ডে পরিস্থিতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। দেশটির সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভালতোরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানায়। ডেনমার্কের পৌরসভাগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কমবিটও জাতীয় স্কুল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মসহ কয়েকটি পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের অপেক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।

পিএইচপি ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। ওয়েবসাইটের সার্ভারে এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য ও পৃষ্ঠা তৈরি করা হয়। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টার মতো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট পরিচালনা ব্যবস্থার পেছনেও এই ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওয়েব প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউথ্রিটেকসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা সম্ভব, সেগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রায় ৪৩ শতাংশ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেস জানিয়েছে, ওয়েবসাইট, হোস্টিং ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সফটওয়্যারে পিএইচপির ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এই নিরাপত্তা ত্রুটির প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে।

ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ডেন কেনেখট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের হামলা শুরু হয়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ম হালনাগাদ করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ব্যবস্থা সাময়িক সুরক্ষা দেবে। পিএইচপির নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলে দ্রুত তা ইনস্টল করতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসের নিরাপত্তা প্লাগইন ওয়ার্ডফেন্স জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন হবে না। তাই ওয়েবসাইট পরিচালকদের সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণ হালনাগাদ করার দায়িত্ব কার, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কিংস কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাস ওলেইনিক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিচালিত সাইবার হামলা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তার মতে, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে খুব দ্রুত এবং ব্যাপক পরিসরে হামলা চালানো সম্ভব।

বিশেষ করে সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত ছোট ওয়েবসাইটগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ওয়েবসাইটের অনেকগুলো যৌথ হোস্টিং ব্যবস্থায় চলে, যেখানে ব্যবহারকারীরা সরাসরি মূল সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ফলে নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনে দেরি হলে ওয়েবসাইটগুলো দীর্ঘ সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পিএইচপির পঞ্চম সংস্করণ থেকে পরবর্তী সংস্করণগুলোও ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন কোন সংস্করণ আক্রান্ত, সে বিষয়ে পিএইচপি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।

নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলেও সব ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত ত্রুটি সংশোধন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

সাইবার ঝুঁকিতে সতর্কতা, বন্ধ বহু ওয়েবসাইট

আপডেট সময় ০২:২৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ অথবা ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  আজ ১১ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা

পিএইচপি ডেভেলপাররা ২০ অক্টোবর দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের কথা জানান। ত্রুটিগুলো সমাধানে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হলে দ্রুত তা ইনস্টল করার পরামর্শও দেন তারা। তবে নতুন সংস্করণ প্রকাশের আগেই সম্ভাব্য হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশের সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। দেশটির রটারডাম বন্দর, সরকারি পোর্টাল ওভারহেইড ডট এনএল, জাতীয় ফুটবল সংস্থা এবং পাঁচটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইটও এ পদক্ষেপের আওতায় পড়ে।

ফিনল্যান্ডে পরিস্থিতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। দেশটির সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভালতোরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানায়। ডেনমার্কের পৌরসভাগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কমবিটও জাতীয় স্কুল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মসহ কয়েকটি পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের অপেক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।

পিএইচপি ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। ওয়েবসাইটের সার্ভারে এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য ও পৃষ্ঠা তৈরি করা হয়। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টার মতো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট পরিচালনা ব্যবস্থার পেছনেও এই ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওয়েব প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউথ্রিটেকসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা সম্ভব, সেগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রায় ৪৩ শতাংশ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেস জানিয়েছে, ওয়েবসাইট, হোস্টিং ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সফটওয়্যারে পিএইচপির ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এই নিরাপত্তা ত্রুটির প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে।

ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ডেন কেনেখট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের হামলা শুরু হয়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ম হালনাগাদ করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ব্যবস্থা সাময়িক সুরক্ষা দেবে। পিএইচপির নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলে দ্রুত তা ইনস্টল করতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসের নিরাপত্তা প্লাগইন ওয়ার্ডফেন্স জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন হবে না। তাই ওয়েবসাইট পরিচালকদের সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণ হালনাগাদ করার দায়িত্ব কার, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কিংস কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাস ওলেইনিক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিচালিত সাইবার হামলা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তার মতে, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে খুব দ্রুত এবং ব্যাপক পরিসরে হামলা চালানো সম্ভব।

বিশেষ করে সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত ছোট ওয়েবসাইটগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ওয়েবসাইটের অনেকগুলো যৌথ হোস্টিং ব্যবস্থায় চলে, যেখানে ব্যবহারকারীরা সরাসরি মূল সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ফলে নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনে দেরি হলে ওয়েবসাইটগুলো দীর্ঘ সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পিএইচপির পঞ্চম সংস্করণ থেকে পরবর্তী সংস্করণগুলোও ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন কোন সংস্করণ আক্রান্ত, সে বিষয়ে পিএইচপি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।

নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলেও সব ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত ত্রুটি সংশোধন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স