ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দিলীপ আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 27

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ ও হীরা বিক্রির আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অর্থপাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, চোরাচালানের উৎস অনুসন্ধান এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দিলীপ আগারওয়ালাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ৩টা ২ মিনিটে পুলিশি পাহারায় তাঁকে এজলাসে তোলা হয়। ৩টা ১৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসার পর তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  অভিনেতা সিদ্দিক রিমান্ড শেষে কারাগারে

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমনও রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল, আবদুল্লাহ আল মনসুর রিপন, সানাউল ইসলাম টিপু, জাহাঙ্গীর আলম ও মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল বলেন, রিমান্ডের আবেদন মামলার অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, দিলীপ আগারওয়ালা একজন সিআইবি এবং সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন। তিনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ বলেও আদালতকে জানান।

আইনজীবী আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব চলছে এবং পরদিন দশমী। এসব বিবেচনায় রিমান্ড বাতিল করে আসামিকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, দিলীপ আগারওয়ালার অধীনে ৫০ হাজার কর্মচারী কাজ করেন। তাঁর বয়স ৫৭ বছর হলেও বাস্তবে ৬০ বছর বলে উল্লেখ করে বয়স বিবেচনায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করার অনুরোধ জানান তিনি। তবে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে আবার পুলিশি পাহারায় সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দিলীপ আগারওয়ালা ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ৮১ হাজার টাকার পণ্য বৈধভাবে আমদানি করেন। তবে অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে আরও ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা কেনেন তিনি। এসব পণ্যের ক্রয়সূত্র বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিলীপ আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

স্বর্ণ ও হীরা বিক্রির আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অর্থপাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, চোরাচালানের উৎস অনুসন্ধান এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দিলীপ আগারওয়ালাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ৩টা ২ মিনিটে পুলিশি পাহারায় তাঁকে এজলাসে তোলা হয়। ৩টা ১৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসার পর তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  আবারও চার দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমনও রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল, আবদুল্লাহ আল মনসুর রিপন, সানাউল ইসলাম টিপু, জাহাঙ্গীর আলম ও মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল বলেন, রিমান্ডের আবেদন মামলার অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, দিলীপ আগারওয়ালা একজন সিআইবি এবং সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন। তিনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ বলেও আদালতকে জানান।

আইনজীবী আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব চলছে এবং পরদিন দশমী। এসব বিবেচনায় রিমান্ড বাতিল করে আসামিকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, দিলীপ আগারওয়ালার অধীনে ৫০ হাজার কর্মচারী কাজ করেন। তাঁর বয়স ৫৭ বছর হলেও বাস্তবে ৬০ বছর বলে উল্লেখ করে বয়স বিবেচনায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করার অনুরোধ জানান তিনি। তবে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে আবার পুলিশি পাহারায় সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দিলীপ আগারওয়ালা ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ৮১ হাজার টাকার পণ্য বৈধভাবে আমদানি করেন। তবে অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে আরও ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা কেনেন তিনি। এসব পণ্যের ক্রয়সূত্র বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।