ভোট না দিলেও সবার সরকার হতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 29
রংপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সরকার ভোট দেওয়া ও না দেওয়ার পার্থক্য না করে দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের বৈষম্য কমানো এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, যারা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তাঁদের জন্য যেমন কাজ করবে, তেমনি যারা ভোট দেননি, তাঁদের জন্যও কাজ করবে। দেশের সব এলাকার এবং সব মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।
সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন এই সহাবস্থান বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। নির্বাচনে কে সমর্থন দিয়েছেন আর কে দেননি, সেই পার্থক্য না করে সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করা হবে। রংপুর মহানগরের উন্নয়নে এরই মধ্যে একটি বৈঠকে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের মাধ্যমে মানুষকে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এসব কাজ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিরা সংসদে রয়েছেন এবং রাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি হয়।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। সরকার এসব নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলেও কিছুদিন ধরে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতাড়িত করার চেষ্টা হয়েছিল, যার ফল ভালো হয়নি। দেশের মানুষ সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গ্রহণ করেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। অতীতের মতো বর্তমানেও সরকার জনগণকে পাশে চায়।
মন্দিরের পেছনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিনা মূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে আসা যাঁদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন, তাঁদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে নিরাপদ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছানোর সময় সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রংপুর নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি গত পাঁচ দিন ধরে নগরের বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারকাজ চলে। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হয়। এ ছাড়া ডিসির মোড় থেকে লালকুঠির মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। তবে সফরের আগে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করায় কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রংপুরের কর্মসূচি শেষে একই দিনে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর।
























