জাইমা রহমানের যোগ্যতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত মুশফিকের বক্তব্য
- আপডেট সময় ১২:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 41
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর মতে, পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি জাইমা রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আইনি প্রশিক্ষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত অর্জনও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে তাঁর আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সম্ভাব্য ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট পদের অর্থায়ন কাঠামো নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন এই রাষ্ট্রদূত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।
জাইমা রহমানের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি লেখেন, তাঁর দাদা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, দাদি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনীপ্রধান ও মন্ত্রী, বাবা বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক। এমন পরিবারের সদস্যকে ঘিরে সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক।
জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তাঁর কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে এসব আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনও যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
তিনি লেখেন, পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। তাঁর পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হওয়ার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম জীবনের স্বতন্ত্র অধ্যায়। জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব অর্জনকে শুধু পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া ন্যায্য নয় বলেও মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত।
মুশফিকুল ফজল আনসারীর মতে, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাইমা রহমান জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন—এটি অস্বাভাবিক প্রত্যাশা নয়। তাঁর ভাষ্য, পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা বা অযোগ্যতার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কাঠামো তুলে ধরে তিনি লেখেন, ওই দপ্তরের ৪০ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে দেওয়া হয়। চারজন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে কাজ করেন, ২০ জন সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত এবং বাকি আটজন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।
জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যে পদে যোগ দেবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত বলে জানান মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পদটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই রাষ্ট্রদূত লেখেন, তিনি জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পেশাগত যোগাযোগ থাকা অযোগ্যতার প্রমাণ নয়; বরং তা যোগ্যতার মূল্যায়নে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
বেতন-ভাতার বিষয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, জাতিসংঘের পেশাগত পদগুলোর বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয় যুক্ত হয়। তাই বেতন নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল ও প্রযোজ্য সুবিধার নিয়ম বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও লেখেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধার ব্যয় জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না; সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে এসব ব্যয় বহন করতে হয়। তবে জাতিসংঘের দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমের ব্যয় দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে দেওয়া হয়।
জাইমা রহমানকে নিয়ে আগ্রহ, প্রশ্ন এবং তাঁর কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তবে সেই মূল্যায়নে তাঁর নিজস্ব প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যথাযথ গুরুত্ব পাক—এমন প্রত্যাশা জানান তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্য তাঁর প্রতি মানুষের আগ্রহের যৌক্তিক কারণ হলেও, নিজ যোগ্যতায় অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জাইমা রহমানের জন্য শুভকামনা জানান এই রাষ্ট্রদূত।






















