ইউরোপে বৈধ অভিবাসন নিয়ে মাহদী আমিনের বৈঠক
- আপডেট সময় ০৭:১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / 29
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ পথে জনশক্তি পাঠানো, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নথিপত্রে কিউআর কোড সংযোজন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং ইউরোপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে জালিয়াতি ঠেকানো এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিতে কিউআর কোড যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যাতে সহজে ও বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারে অভিবাসনের ভূমিকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যান। তাঁদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উপায় নিয়েও কথা বলেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ‘ব্রেন ড্রেইন’ বা মেধাপাচারকে কীভাবে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ বা মেধার আদান-প্রদানে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইইউ সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
মাহদী আমিন ইইউ প্রতিনিধিদলকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়েও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইইউর পরিচালক হেনরিক নীলসেন এবং ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং একজন ফার্স্ট কাউন্সেলর উপস্থিত ছিলেন।






















