রূপপুরে প্রথমবার সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া
- আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে এ বিক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের সব প্যারামিটার নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে এবং বিকিরণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
রোববার বিকেলে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। এ মডেলের চুল্লিতে উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে ধাপে ধাপে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ‘বি ওয়ান’ পর্যায় মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে যে জটিলতা ছিল, সেটিও কেটে গেছে।
এর পরবর্তী ধাপ ‘বি টু’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন তৈরির প্রক্রিয়া।
ক্রিটিক্যালিটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে পরমাণুর বিভাজনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি হয়। এর মধ্য দিয়ে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পর বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





















