ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

 

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগকে দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  চীনের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে বরাদ্দের অর্থ জনগণের, তাই তা যেন যথাযথভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’

সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এ সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’

দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকে সেই সুযোগ দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’

সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ভবিষ্যতে আবারও আলোচনা করার কথা জানান তিনি। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৬:২৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

 

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগকে দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  হি"জ*বু"ল্লা'হর তীব্র প্রতিক্রিয়া

সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে বরাদ্দের অর্থ জনগণের, তাই তা যেন যথাযথভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’

সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এ সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’

দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকে সেই সুযোগ দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’

সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ভবিষ্যতে আবারও আলোচনা করার কথা জানান তিনি। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।