ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ; জয়-পলক সেই সভায় ছিলেন: বিটিআরসি কর্মকর্তা
- আপডেট সময় ০২:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / 29
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই একটি পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের সভায় অনলাইনে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমদ।
রোববার (১২ অক্টোবর) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দেন মাহদী আহমদ। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তাকে জানানো হয়। এরপর বিটিআরসির মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশনা দেন এবং বিষয়টি তাকে ফোনে জানান।
সাক্ষী জানান, ১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের একই ধরনের নির্দেশনা আসে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেন। চেয়ারম্যান তা মহাপরিচালককে জানান এবং মহাপরিচালক সরাসরি মোবাইল অপারেটরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানতে পারেন। তখন তিনি দাপ্তরিক কাজে অফিসে ছিলেন।
১৬ জুলাই একটি ‘হাই অফিশিয়াল’ পূর্বনির্ধারিত সভা ছিল বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মাহদী আহমদ। তিনি বলেন, সভায় তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে অংশ নেন। সভায় তার একটি এজেন্ডা থাকায় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন, তবে সভায় অংশ নেননি। তিনি নিজের তৈরি করা নথিগুলো মহাপরিচালককে সরবরাহ করেছিলেন। ওই দিন নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয়।
মাহদী আহমদ আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, এমএফএস সংস্থা এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই সভায় পলক এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিটিআরসিকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। পরে ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এসব ক্যাশ সার্ভার চালুর নির্দেশ দেন পলক।


























