ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদে হামলায় নিহত ২, আহত ২৪ বাংলাদেশি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 35

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত দুজনের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিহত দুই বাংলাদেশির একজন মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা ইকামা ছিল।

আরও পড়ুন  টিকটক করতে গিয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত ২

ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে সৌদি আরবে ফিরছিলেন শাহেদ। রিয়াদ হয়ে তাঁর জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।

নিহত অপর বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনা হবে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। বাকি ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি—হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক এবং মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া এবং মা শিউলি বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যদিকে, ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তাঁরাও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা ও মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁরা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহর বাড়ি ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগরে। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগরে। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।

কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত মো. রফিক মিয়া। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

এ ছাড়া এস্টার সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত কয়েকজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার এবং বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশিকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রিয়াদে হামলায় নিহত ২, আহত ২৪ বাংলাদেশি

আপডেট সময় ০৯:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত দুজনের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিহত দুই বাংলাদেশির একজন মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা ইকামা ছিল।

আরও পড়ুন  ভারতে তীর্থযাত্রীবাহী গাড়ি উল্টে নিহত ১২

ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে সৌদি আরবে ফিরছিলেন শাহেদ। রিয়াদ হয়ে তাঁর জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।

নিহত অপর বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনা হবে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। বাকি ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি—হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক এবং মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া এবং মা শিউলি বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যদিকে, ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তাঁরাও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা ও মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁরা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহর বাড়ি ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগরে। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগরে। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।

কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত মো. রফিক মিয়া। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

এ ছাড়া এস্টার সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত কয়েকজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার এবং বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশিকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।