ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান: এ্যানি
- আপডেট সময় ০৫:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 26
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের ১২ তারিখের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এর সুফল দেশের মোট অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে জানান তিনি।
পদ্মা ব্যারাজের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের যেকোনো এক সময়ে এর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তারা আশা করছেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। উজান থেকে পানি প্রবাহের পরিস্থিতির কারণে ভাটির অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে অনেক সেমিনার ও আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করতে হবে। ওই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্পের মূল কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই বছরে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সময়ে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে ওই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দিয়ে চুক্তি নবায়ন করা হয়।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। দুই দেশের বৈঠক ও আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে বাংলাদেশ আশাবাদী। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এ্যানি বলেন, পদ্মা ও তিস্তার তীরে বসবাসকারী মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের মানুষের স্বার্থ ও প্রত্যাশাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করবে বলে জানান তিনি।
পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির স্টাডি সম্পন্ন করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। এরপরও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে।
তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সমীক্ষা রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজটি শেষ করতে পারেননি। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তিস্তা প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
























