আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস, সম্মাননা পাচ্ছেন ১০১ গুণী শিক্ষক
- আপডেট সময় ০৮:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের অবদান, পেশাগত মর্যাদা এবং অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা তুলে ধরতেই দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবারই প্রথম প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয়ভাবে ১০১ জন শিক্ষককে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হচ্ছে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো এবং তাদের পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এবার সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হতো। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার ১০১ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এবার প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, মেডিকেল কলেজে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পৃথক সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ৯৫ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত করেছে। বাকি ছয়জনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে মনোনীত করা হয়েছে।
১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরের বছর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে দিবসটি নিয়মিতভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
শিক্ষামন্ত্রীর শুভেচ্ছা
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের শিক্ষকসমাজসহ বিশ্বের সব শিক্ষককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাণীতে তিনি বলেন, শিক্ষকরা একটি জাতির আলোকবর্তিকার মতো। তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবিষয় শেখানোই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও শিক্ষাব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে শিক্ষকদেরও নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশেও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে টেকসই ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের শিক্ষকদের মেধা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তিনি দেশের সব শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।























