আগামী মাসগুলোতে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা জয়শঙ্করের
- আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 55
চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, ইউক্রেন ও ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে জ্বালানি, সার ও খাদ্যশস্যের সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ তৈরি করছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিয়ে ভূরাজনীতি—দুই বিষয়ই একে অপরকে প্রভাবিত করছে। রাজনৈতিক স্বার্থে জ্বালানি সরবরাহকে ব্যবহার করা হলে বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার ও খাদ্যশস্যের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের কয়েকটি বড় খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ সংঘাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইতোমধ্যে সারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ু পরিস্থিতি যুক্ত হলে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
জয়শঙ্করের মতে, সামনে শুধু খাদ্য বা জ্বালানির সংকট নয়, এর সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপও বাড়তে পারে। বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ বাজারের দিকে অর্থ সরিয়ে নেন। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে মূলধন বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি সংকটের সঙ্গে খাদ্য ও সারের ঘাটতি এবং মূলধনের সংকট যুক্ত হয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু তাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও। তাই বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দেশের মৌলিক প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জ্বালানি সংকট দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়াতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রতিবেশী দেশগুলোতে এমন প্রভাব দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন জয়শঙ্কর। তবে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি ও স্বার্থ ভিন্ন হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় সবার জন্য একই ধরনের সমাধান কার্যকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।























