ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 49

ছবি সংগৃহীত

 

সৌদি আরবে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  কেনিয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে ভয়াবহ হামলা: ৬ পুলিশ নিহত, আল-শাবাব সন্দেহে তোলপাড়

সৌদি যুবরাজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অখণ্ডতার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস না করে সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। তবে নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব দ্বিধা করবে না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সৌদি আরব কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেন যুবরাজ সালমান। তাঁর ভাষ্য, এ চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে অবদান রাখার জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এমন একটি জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক পানিপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান সৌদি যুবরাজ।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা ও উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য সৌদি আরব অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলারও নিন্দা জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যুবরাজ।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটিতে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমে ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছে সৌদি আরব।

সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রতিও সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ভিশন ২০৩০-এর আওতায় সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি জানান, ভিশন ২০৩০-এর কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ এবং গত ১০ বছরে বিভিন্ন কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা, সেবার মান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃত্বে পৌঁছানো সৌদি আরবের লক্ষ্য।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

আপডেট সময় ০১:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

সৌদি আরবে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, একদিনেই নিহত ৫১

সৌদি যুবরাজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অখণ্ডতার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস না করে সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। তবে নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব দ্বিধা করবে না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সৌদি আরব কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেন যুবরাজ সালমান। তাঁর ভাষ্য, এ চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে অবদান রাখার জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এমন একটি জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক পানিপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান সৌদি যুবরাজ।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা ও উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য সৌদি আরব অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলারও নিন্দা জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যুবরাজ।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটিতে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমে ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছে সৌদি আরব।

সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রতিও সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ভিশন ২০৩০-এর আওতায় সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি জানান, ভিশন ২০৩০-এর কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ এবং গত ১০ বছরে বিভিন্ন কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা, সেবার মান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃত্বে পৌঁছানো সৌদি আরবের লক্ষ্য।