পাসযোগ্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৩:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 69
মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় পাস করার যোগ্য হয়েও যেসব শিক্ষার্থী ফেল করেছে, তাদের খাতা মূল্যায়নে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে এসব শিক্ষকের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলে এমন অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, যারা আগে অকৃতকার্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তার মতে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। পাস করার মতো যোগ্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আরও যাচাই করে শিগগির বিস্তারিত জানানো হবে।
শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে অনলাইনে বদলি প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে যেসব শিক্ষককে বদলি করলে তাদের জায়গায় নতুন শিক্ষক প্রয়োজন হবে এবং যারা সংযুক্তিতে রয়েছেন, তাদের বিষয়ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
তিনি জানান, বদলি সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে এনটিআরসিএ কাজ করছে। শিগগির এ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো ৮১৭ জনের নিয়োগসংক্রান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হয়নি। এসব প্রার্থীর তথ্য ও ঠিকানা পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
৮১৭ জনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এই সংখ্যক প্রার্থী বাকি রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের ভেরিফিকেশন হচ্ছে এবং ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাদের বিষয়ে প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেগুলো পর্যবেক্ষণে রেখে পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করার পর ৩৩ হাজার ৮৫৪ জনের চূড়ান্ত আবেদন পাওয়া যায়।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে প্রার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের সময় অনেকের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। পর্যায়ক্রমে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছেন। এসব তথ্য যাচাই শেষ হওয়ার পর নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























