ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হুতি হামলায় ৮ ইয়েমেনি সেনা নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

 

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুতি বাহিনীর হামলায় আট সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১২ জন হুতি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে। খবর আলজাজিরার।

এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর তুর আল-বাহাহ মিলিটারি এক্সিস জানিয়েছে, লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে আট সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তবে কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ঘটনায় হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি বুলুর

আট সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানানোর পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করে, তাইজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-আকরুদ এলাকায় অভিযানে ১২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার সকালে তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪১৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।

বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি দাবি করেছেন, এসব হামলায় প্রায় ৮০০ হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে হুতিদের ১৯০টির বেশি সাঁজোয়া যান, যুদ্ধ সরঞ্জাম, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস অথবা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হুতিদের বিভিন্ন দুর্গ ও গোলাবর্ষণের অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

চলতি বছরের জুলাই থেকে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এর পর থেকে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে সানায় বোমা হামলার পর হুতি ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। জবাবে হুতিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ একাধিক প্রদেশ দখল করে নেয়। এর পরই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়। হুতিদের রাজধানী সানা থেকে সরিয়ে দিতে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

দীর্ঘদিনের এই গৃহযুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের অধিকাংশ মানুষ খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়েন। নতুন করে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় দেশটির মানুষ আবারও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হুতি হামলায় ৮ ইয়েমেনি সেনা নিহত

আপডেট সময় ১০:৩৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুতি বাহিনীর হামলায় আট সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১২ জন হুতি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে। খবর আলজাজিরার।

এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর তুর আল-বাহাহ মিলিটারি এক্সিস জানিয়েছে, লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে আট সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তবে কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ঘটনায় হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  গাজায় ই/স/রা/য়ে/লি স্নাইপার হামলায় সাংবাদিক সাঈদ আবু নাভহান নি'হত

আট সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানানোর পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করে, তাইজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-আকরুদ এলাকায় অভিযানে ১২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার সকালে তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪১৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।

বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি দাবি করেছেন, এসব হামলায় প্রায় ৮০০ হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে হুতিদের ১৯০টির বেশি সাঁজোয়া যান, যুদ্ধ সরঞ্জাম, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস অথবা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হুতিদের বিভিন্ন দুর্গ ও গোলাবর্ষণের অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

চলতি বছরের জুলাই থেকে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এর পর থেকে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে সানায় বোমা হামলার পর হুতি ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। জবাবে হুতিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ একাধিক প্রদেশ দখল করে নেয়। এর পরই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়। হুতিদের রাজধানী সানা থেকে সরিয়ে দিতে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

দীর্ঘদিনের এই গৃহযুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের অধিকাংশ মানুষ খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়েন। নতুন করে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় দেশটির মানুষ আবারও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।