ইউরোপের ৪ দেশে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুর
- আপডেট সময় ১১:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসন সংকট ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ইউরোপের চার দেশ—ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে রাস্তায় নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশগুলোর বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি স্থানে কর্মসূচি ঘিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গ শহরে কয়েক ডজন দোকান লুট করা হয়েছে। স্কুলের পরিবেশ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে দেশটিতে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
রাজধানী প্যারিসে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
ফ্রান্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৪৩ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে স্থাপনাটির ছাদ ভেঙে নিচের তলায় পড়ে যেতে দেখা গেছে।
লিমোজ শহরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে টাউন হলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে। এ ক্ষয়ক্ষতিকে ঐতিহ্যের জন্য ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাঁরা।
এসব ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে।
গত মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ফ্রান্সে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা আরও বিস্তৃত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবনতিশীল পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পুলিশের অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যায়। এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের আলঁসোঁ শহরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এক কিশোরীকে হেডলক দিয়ে আটকাতে দেখা যায়। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের কৌশল নিষিদ্ধ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আড়ালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও টাউন হলে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ফ্রান্সের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ব্রাসেলসে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া ও আগুন জ্বালানোর অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। লিয়েজ শহরেও জলকামান মোতায়েন করা হয়।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কয়েক দশ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং বড় শহরগুলোতে আবাসন সংকট ছিল তাঁদের প্রতিবাদের প্রধান বিষয়।
দেশটিতে ২০১৭ সালের পর থেকে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন চুক্তিতে বাসাভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে আবাসন ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্তুগালের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম বলেন, ‘রাস্তায় চিৎকারের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না।’ অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও সমস্যার সঙ্গে সংযোগ হারানোর অভিযোগ তুলেছেন।
ইতালির মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর জানিয়েছে পুলিশ। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপের চার দেশে ছড়িয়ে পড়া এসব বিক্ষোভ জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরি, আবাসন ও সরকারি সেবা নিয়ে মানুষের অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনাগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
























