জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস বাংলার প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৬:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 63
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন। বাংলায় দেওয়া এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার বিরল নজির তৈরি করেছেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয় এবং রোহিঙ্গা সংকট তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।
তারেক রহমানের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সঙ্গে তাঁর পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।
এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। সেটিই ছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।
জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে মোট পাঁচবার ভাষণ দেন। এর বাইরে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশন চলাকালে দুটি পৃথক সভায়ও তিনি বক্তব্য দেন।
এবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য রাখলেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলে—তিনজনেরই রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার ধারাবাহিকতা তৈরি হলো।






















