ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে পিকআপে আগুন খিলক্ষেতে ১২ বছরের শিশু নিখোঁজ, অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের শক্তির হাতে নয়: আরাগচি জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে কড়াকড়ি, বিয়েতে ১পদ, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান: এলজিইডিকে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন: প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,০২০

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরটি আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে শুক্রবার ভারতের আরেক ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, নভেম্বরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন  ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ব্রিকসের আয়োজক দেশ ভারত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার বাংলাদেশকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

এর আগে আগস্টে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই সফর শেষ পর্যন্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের সঙ্গে অডিও লিংকে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পর সফরটি পিছিয়ে যায়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। বর্তমানে দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা করছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি তারিখ খোঁজা হচ্ছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার পদেও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের নাম রয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিলেও গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সফরের ক্ষেত্রে ঢাকার পক্ষ থেকে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারত এখনো নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি। ভারতীয় পক্ষ বলছে, অনুরোধটি ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুরোধের পাশাপাশি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় রাখতে চায় ভারত।

দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে উভয় পক্ষই সচেতন। সফরের সময় নির্ধারণে চলমান আলোচনা মূলত দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য পথ খোঁজার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা

আপডেট সময় ১২:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরটি আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে শুক্রবার ভারতের আরেক ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, নভেম্বরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন  ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে বিক্ষোভ, রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ব্রিকসের আয়োজক দেশ ভারত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার বাংলাদেশকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

এর আগে আগস্টে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই সফর শেষ পর্যন্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের সঙ্গে অডিও লিংকে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পর সফরটি পিছিয়ে যায়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। বর্তমানে দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা করছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি তারিখ খোঁজা হচ্ছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার পদেও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের নাম রয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিলেও গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সফরের ক্ষেত্রে ঢাকার পক্ষ থেকে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারত এখনো নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি। ভারতীয় পক্ষ বলছে, অনুরোধটি ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুরোধের পাশাপাশি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় রাখতে চায় ভারত।

দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে উভয় পক্ষই সচেতন। সফরের সময় নির্ধারণে চলমান আলোচনা মূলত দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য পথ খোঁজার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।