ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্ল্যাটে নারীসহ ওসি, পুলিশে ধরিয়ে দিলেন স্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 11

ছবি সংগৃহীত

 

রাজশাহী নগরের একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে বের করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ওই সময় ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান করছিলেন ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বলে দাবি করা এক নারী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  বিয়ের মুহূর্তে যৌতুক নিয়ে হাঙ্গামা, বরকে নিয়ে গেল পুলিশ

ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা আন্নি আক্তার জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখানে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। ভেতরে তার স্বামী মাহবুব আলম রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দরজা ভেঙে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে আনেন। পরে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব ও সানজিদা অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

মাহবুব আলম সানজিদাকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, চার দিন আগে তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন।

আন্নি জানান, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন এবং বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিয়ে করেন বলে তার অভিযোগ।

আন্নির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব ওই ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। এরপর শুক্রবার সকালে তিনি সেখানে গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন এবং পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। পুলিশও জানিয়েছে, মাহবুব চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ জমা দিয়েছেন। তবে আন্নি বলেছেন, তিনি এমন কোনো কাগজ হাতে পাননি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব ও সানজিদাকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়।

চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং তিনি কাউকে না জানিয়েই রাজশাহী গেছেন। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্ল্যাটে নারীসহ ওসি, পুলিশে ধরিয়ে দিলেন স্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৩২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

রাজশাহী নগরের একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে বের করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ওই সময় ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান করছিলেন ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বলে দাবি করা এক নারী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  টিউলিপ সিদ্দিকের আয়কর ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত নথি জব্দ

ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা আন্নি আক্তার জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখানে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। ভেতরে তার স্বামী মাহবুব আলম রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দরজা ভেঙে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে আনেন। পরে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব ও সানজিদা অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

মাহবুব আলম সানজিদাকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, চার দিন আগে তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন।

আন্নি জানান, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন এবং বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিয়ে করেন বলে তার অভিযোগ।

আন্নির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব ওই ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। এরপর শুক্রবার সকালে তিনি সেখানে গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন এবং পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। পুলিশও জানিয়েছে, মাহবুব চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ জমা দিয়েছেন। তবে আন্নি বলেছেন, তিনি এমন কোনো কাগজ হাতে পাননি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব ও সানজিদাকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়।

চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং তিনি কাউকে না জানিয়েই রাজশাহী গেছেন। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।