ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন করতে চায় ইসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 32

ছবি সংগৃহীত

 

আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

আরও পড়ুন  জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে

সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, সভায় অংশ নেওয়া সবাই একমত হয়েছেন যে আগামী বছরের জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এ কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরীক্ষার কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে যৌক্তিক হিসেবে দেখছে এবং তা সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, বাজেট পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সমন্বয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। স্টাফ ও সচিবালয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করার পর কমিশনের বৈঠকে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে শুরু হবে, তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা হচ্ছে না। তবে নির্বাচন শেষ করার সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা চলছে। আইন অনুযায়ী অন্য নির্বাচনগুলোর সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে।

নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার সূচিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কমিশনার। তার ভাষ্য, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা থাকায় নির্বাচনের জন্য সময় পাওয়া কঠিন। জানুয়ারিতে কিছুটা সুযোগ থাকলেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রোজার ছুটির পর শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা।

তিনি আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত আবার কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। তবে পুরো সময়সূচি বেশ আঁটসাঁট হওয়ায় সব কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন করতে চায় ইসি

আপডেট সময় ০৬:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

আরও পড়ুন  জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে

সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, সভায় অংশ নেওয়া সবাই একমত হয়েছেন যে আগামী বছরের জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এ কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরীক্ষার কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে যৌক্তিক হিসেবে দেখছে এবং তা সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, বাজেট পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সমন্বয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। স্টাফ ও সচিবালয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করার পর কমিশনের বৈঠকে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে শুরু হবে, তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা হচ্ছে না। তবে নির্বাচন শেষ করার সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা চলছে। আইন অনুযায়ী অন্য নির্বাচনগুলোর সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে।

নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার সূচিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কমিশনার। তার ভাষ্য, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা থাকায় নির্বাচনের জন্য সময় পাওয়া কঠিন। জানুয়ারিতে কিছুটা সুযোগ থাকলেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রোজার ছুটির পর শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা।

তিনি আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত আবার কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। তবে পুরো সময়সূচি বেশ আঁটসাঁট হওয়ায় সব কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে।