ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 36

ছবি সংগৃহীত

 

ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছালে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বাইরে কোনো ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের সরাসরি অংশগ্রহণ এবারই প্রথম।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন যুগের সূচনা

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নয়াদিল্লিতে এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির অবরোধ। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতিও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন পুতিন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই ব্যবসায়ী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সদস্য দেশগুলোর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।

এরপর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পুতিন। দুই নেতা ইনোপ্রম প্রদর্শনীও পরিদর্শন করবেন। রাশিয়া ও ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

দুই নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্রিকসের মূল শীর্ষ সম্মেলন শুরু হবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করবেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা।

রাজনীতি ও নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও অর্থায়ন এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের সম্প্রসারিত বৈঠক। এতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের প্রধানদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নেবেন।

শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে পুতিনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের কোনো সূচি নেই। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে বা ‘পুল-অ্যাসাইড বৈঠকে’ কথা বলতে পারেন।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনে চীন, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে ঢাকা সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানানোয় সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন

আপডেট সময় ০৮:২৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছালে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বাইরে কোনো ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের সরাসরি অংশগ্রহণ এবারই প্রথম।

আরও পড়ুন  গোয়ার মন্দিরে শোভাযাত্রায় পদপিষ্ট হয়ে ৬ জনের মৃত্যু, আহত ১৮

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নয়াদিল্লিতে এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির অবরোধ। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতিও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন পুতিন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই ব্যবসায়ী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সদস্য দেশগুলোর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।

এরপর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পুতিন। দুই নেতা ইনোপ্রম প্রদর্শনীও পরিদর্শন করবেন। রাশিয়া ও ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

দুই নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্রিকসের মূল শীর্ষ সম্মেলন শুরু হবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করবেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা।

রাজনীতি ও নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও অর্থায়ন এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের সম্প্রসারিত বৈঠক। এতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের প্রধানদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নেবেন।

শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে পুতিনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের কোনো সূচি নেই। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে বা ‘পুল-অ্যাসাইড বৈঠকে’ কথা বলতে পারেন।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনে চীন, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে ঢাকা সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানানোয় সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে