ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে দোকানে লুট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

ছবি সংগৃহীত

 

কুষ্টিয়ার খোকসায় নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীদের বেঁধে রেখে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার একতারপুর বাজারে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে ডাকাতি নয়, চুরি বলে দাবি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অস্ত্রধারীরা একতারপুর বাজারে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা চার নৈশপ্রহরীকে আটক করে ওবায়দুলের চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা দিয়ে তাদের হাত বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়। দলের কয়েকজন নৈশপ্রহরী ও দুই ব্যবসায়ীকে পাহারায় রাখে। অন্যরা বিভিন্ন দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  মৌলভীবাজারে লাউয়াছড়া সড়কে গাছ ফেলে ভয়াবহ ডাকাতি, আহত ১৫ জন

ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানার তালা ভেঙে লকারের ড্রয়ার থেকে কয়েক ভরি পুরোনো স্বর্ণের গহনা, প্রায় ২০ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ এবং চা-দোকানি ওবায়দুলের দোকানেও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।

নৈশপ্রহরীদের ভাষ্য, ওই দলে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ছিল। সবার মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যদের কাছে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে তারা দাবি করেন। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে একদল নৈশপ্রহরীদের আটকে রাখে, আরেকদল দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নেয়। বাকিরা পাহারা দেয়।

নৈশপ্রহরীদের আরও অভিযোগ, দলটি চলে যাওয়ার সময় দুই নৈশপ্রহরীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায়।

পূর্ণ জুয়েলার্সের মালিক প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করার সময় তিনি বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে যান। এরপরও দুর্বৃত্তরা দোকানের সব সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরে দুটি শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরোনো স্বর্ণের গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা এবং ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন ফোন করে দোকানে লুটপাটের বিষয়টি জানান। বাজারে এসে তিনি দোকানের সাটার বন্ধ দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারেন।

ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ওই বাজারে ব্যবসা করছেন। এর আগে এমন ঘটনা দেখেননি। তার ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তার কাছ থেকে ধার করে আনা ৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে পাঁচজন পাহারাদার রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে আটক করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালানো হয়েছে। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও এখনো মামলা হয়নি।

তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, একতারপুর বাজারে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, এটি ‘শতভাগ চুরি’।

নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রাখা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি এ বিষয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে দোকানে লুট

আপডেট সময় ০৬:০০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কুষ্টিয়ার খোকসায় নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীদের বেঁধে রেখে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার একতারপুর বাজারে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে ডাকাতি নয়, চুরি বলে দাবি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অস্ত্রধারীরা একতারপুর বাজারে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা চার নৈশপ্রহরীকে আটক করে ওবায়দুলের চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা দিয়ে তাদের হাত বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়। দলের কয়েকজন নৈশপ্রহরী ও দুই ব্যবসায়ীকে পাহারায় রাখে। অন্যরা বিভিন্ন দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ১২ জন

ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানার তালা ভেঙে লকারের ড্রয়ার থেকে কয়েক ভরি পুরোনো স্বর্ণের গহনা, প্রায় ২০ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ এবং চা-দোকানি ওবায়দুলের দোকানেও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।

নৈশপ্রহরীদের ভাষ্য, ওই দলে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ছিল। সবার মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যদের কাছে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে তারা দাবি করেন। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে একদল নৈশপ্রহরীদের আটকে রাখে, আরেকদল দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নেয়। বাকিরা পাহারা দেয়।

নৈশপ্রহরীদের আরও অভিযোগ, দলটি চলে যাওয়ার সময় দুই নৈশপ্রহরীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায়।

পূর্ণ জুয়েলার্সের মালিক প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করার সময় তিনি বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে যান। এরপরও দুর্বৃত্তরা দোকানের সব সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরে দুটি শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরোনো স্বর্ণের গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা এবং ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন ফোন করে দোকানে লুটপাটের বিষয়টি জানান। বাজারে এসে তিনি দোকানের সাটার বন্ধ দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারেন।

ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ওই বাজারে ব্যবসা করছেন। এর আগে এমন ঘটনা দেখেননি। তার ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তার কাছ থেকে ধার করে আনা ৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে পাঁচজন পাহারাদার রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে আটক করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালানো হয়েছে। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও এখনো মামলা হয়নি।

তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, একতারপুর বাজারে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, এটি ‘শতভাগ চুরি’।

নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রাখা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি এ বিষয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।