ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরের নাম বদলাচ্ছে না, আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুরুতে একটি-দুটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে পরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে নেওয়া হবে টার্মিনালটি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  ভিসা যাচাই হবে জেনে কৌশলে বিমানবন্দর ছেড়ে গেলেন মালয়েশিয়াগামী ৭১ যাত্রী

মন্ত্রী বলেন, যেভাবেই হোক ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালু করে দিতে চান তারা। টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন মেশিন ও সিস্টেমের টেস্ট-ট্রায়াল প্রতিদিন চলছে।

বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ বলে জানান তিনি। ইন্টারনেট, বিভিন্ন মেশিন ও সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনসহ যেসব কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে বলে জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টার্মিনালটি সর্বোচ্চ ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করতে পারবে।

পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে এই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানান তিনি।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে লাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।

থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগামী বছর থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বিমানবন্দরে নামার পরই যেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পান, সেভাবেই টার্মিনালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে শুধু নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারের কাছে এ মুহূর্তে মূল গুরুত্ব থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং এর সেবার মান নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘নাম পরিবর্তন নয়, আমরা থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরুর পর ধাপে ধাপে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিমানবন্দরের নাম বদলাচ্ছে না, আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

আপডেট সময় ০১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুরুতে একটি-দুটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে পরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে নেওয়া হবে টার্মিনালটি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে বিমানবন্দরে নির্ঘুম মন্ত্রী-এমপিরা

মন্ত্রী বলেন, যেভাবেই হোক ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালু করে দিতে চান তারা। টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন মেশিন ও সিস্টেমের টেস্ট-ট্রায়াল প্রতিদিন চলছে।

বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ বলে জানান তিনি। ইন্টারনেট, বিভিন্ন মেশিন ও সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনসহ যেসব কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে বলে জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টার্মিনালটি সর্বোচ্চ ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করতে পারবে।

পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে এই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানান তিনি।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে লাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।

থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগামী বছর থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বিমানবন্দরে নামার পরই যেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পান, সেভাবেই টার্মিনালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে শুধু নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারের কাছে এ মুহূর্তে মূল গুরুত্ব থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং এর সেবার মান নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘নাম পরিবর্তন নয়, আমরা থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরুর পর ধাপে ধাপে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।