ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকট কাটলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: ডা. জাহেদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 28

ছবি সংগৃহীত

 

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ গ্যাসের ঘাটতি। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  লোডশেডিংয়ে মাথা গরম? শান্ত থাকার সহজ কৌশল

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাসের সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। ফলে বর্তমানের মতো তীব্র লোডশেডিং আর থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে লোডশেডিং ছিল। তবে রাজধানী ঢাকায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ঢাকার মানুষের ‘ভয়েস’ এবং সামাজিক পুঁজি বেশি থাকায় রাজধানীবাসী লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কম অনুভব করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লোডশেডিংয়ের পরিমাণের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ পূর্ণ বছর ছিল ২০২৩। ওই বছরের জুন, জুলাই ও আগস্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের একই সময়ের গড় লোডশেডিং তুলনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাইয়ে চলতি বছরের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের জুনে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭৪১ মেগাওয়াটে।

একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ৪৬০ মেগাওয়াটে।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে।

আগস্টে লোডশেডিং কেন এতটা বেড়েছিল, তা সবাই জানেন মন্তব্য করে ডা. জাহেদ বলেন, ওই মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ের হিসাবে ২০২৬ সালের লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল।

রাজধানীতে লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার বাসিন্দাদেরও কিছুটা সংকট মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং এখানেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট দূর হলে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতি হবে এবং বর্তমান লোডশেডিংয়ের চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকট কাটলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: ডা. জাহেদ

আপডেট সময় ১২:৫২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ গ্যাসের ঘাটতি। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  গরমে বিদ্যুৎ সংকট: লোডশেডিং নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাসের সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। ফলে বর্তমানের মতো তীব্র লোডশেডিং আর থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে লোডশেডিং ছিল। তবে রাজধানী ঢাকায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ঢাকার মানুষের ‘ভয়েস’ এবং সামাজিক পুঁজি বেশি থাকায় রাজধানীবাসী লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কম অনুভব করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লোডশেডিংয়ের পরিমাণের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ পূর্ণ বছর ছিল ২০২৩। ওই বছরের জুন, জুলাই ও আগস্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের একই সময়ের গড় লোডশেডিং তুলনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাইয়ে চলতি বছরের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের জুনে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭৪১ মেগাওয়াটে।

একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ৪৬০ মেগাওয়াটে।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে।

আগস্টে লোডশেডিং কেন এতটা বেড়েছিল, তা সবাই জানেন মন্তব্য করে ডা. জাহেদ বলেন, ওই মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ের হিসাবে ২০২৬ সালের লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল।

রাজধানীতে লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার বাসিন্দাদেরও কিছুটা সংকট মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং এখানেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট দূর হলে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতি হবে এবং বর্তমান লোডশেডিংয়ের চাপ অনেকটাই কমে আসবে।