ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু
- আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 15
ভারতের ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর আগামীকাল শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাসহ ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।
এর আগে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেন ভারতের হিলির ব্যবসায়ীরা। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। কর্মহীন হয়ে পড়েন বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত শ্রমিক।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল জানান, বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একাধিক বৈঠক হয়। সেখানে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসন সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বালুরঘাট সফরকালে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকেও ব্যবসায়ীরা হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিকাশ মণ্ডল বলেন, শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।
এদিকে, শুক্রবার সকালে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, বালুরঘাটে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের দাবিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট যৌক্তিক ছিল। নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন কমে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।



















