৮৯ বছর বয়সে মারা গেলেন নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড
- আপডেট সময় ০৪:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 23
নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক রাজা এবং দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে নরওয়ের সিংহাসনে থাকা এক জনপ্রিয় রাজতন্ত্রের অবসান হলো।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজা হারাল্ড। তার মৃত্যুর পর রাজপ্রাসাদের ছাদে থাকা রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়।
বিরল এক ধরনের রক্তজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
এদিকে রাজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হন। তারা ফুল দিয়ে রাজা হারাল্ডের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পঞ্চম হারাল্ড ছিলেন ১৪ শতকের পর নরওয়েতে জন্ম নেওয়া প্রথম রাজা। প্রায় ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন।
দীর্ঘ রাজত্বকালে হারাল্ডকে নরওয়ের একজন জনপ্রিয় ও সংস্কারপন্থি রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাজতন্ত্রকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিনের কিছু প্রথা থেকেও সরে এসেছিলেন।
সাধারণ পরিবারের মেয়ে সোনজা হারাল্ডসেনকে বিয়ে করাও ছিল তার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নরওয়েজীয়দের ঐক্যবদ্ধ রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজপর্যবেক্ষকদের মতে, হারাল্ড ছিলেন সহজ-সরল, শ্রদ্ধেয় ও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজা। অনেকেই তাকে ‘জাতির দাদু’ ও ‘জনগণের রাজা’ হিসেবে বর্ণনা করতেন। ‘জনগণের রাজা’ উপাধিটি তার বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
২০১১ সালে অসলো ও উটোয়া দ্বীপে ভয়াবহ বোমা ও বন্দুক হামলার পর নরওয়েজীয়দের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন রাজা হারাল্ড। সে সময় তিনি জনগণকে ভয়কে নিজেদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: বিবিসি























