নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজদের বড় অংশ বিদেশি পর্যটক
- আপডেট সময় ০৯:৩৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 31
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন, যাদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক। ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর এটিকে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৩৩টি, গোর্খায় ১৯টি, ধাদিংয়ে ১৮টি, নুয়াকোটে ১১টি, নওয়ালপুরে ১১টি, তানাহুঁতে সাতটি এবং রসুয়ায় একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য বলছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৬১ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ট্যুর অপারেটরদের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের বেশিরভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।
দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তিব্বত অঞ্চলে একটি ভূমিকম্পের পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে হওয়া ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।
এদিকে তিব্বতের গিরংয়েও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জল ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র স্রোতে নদীর পানি উপচে বহু বাড়িঘর ভেসে গেছে। বিস্তীর্ণ জনবসতি কাদামাটিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্যোগের মাত্রা আরও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।
উপদ্রুত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে এসব বাহিনী কাজ করছে।
তবে কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইসিমোড সতর্ক করেছে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর উজানে এখনো পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

























