অক্টোবরে পাঁচ বিভাগীয় ও জেলা শহরে শিশু হাসপাতাল চালুর ঘোষণা
- আপডেট সময় ০৪:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 38
আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা ও গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বির যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর দিয়ে হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিস্তার ও মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়। এ ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণে সঠিক সময়ে কার্যকর টিকাদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ড. এম এ মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল বর্তমানের এই মহামারি।
অবাস্তব আশ্বাস দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ানো হলেও হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে।
তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য বা পেডিয়াট্রিকস, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—এই চারটি প্রধান চিকিৎসা বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, বারডেম ও হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত কিন্তু সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতের জন্য কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ। ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে।
তাঁর মতে, রাজধানীতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এ কারণে ঢাকার বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের মতো একই মানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।





















