তিন ইরানি পাইলটকে আটকের অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় ০৪:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 27
তিন ইরানি পাইলটকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে কাতারের বিরুদ্ধে। ইরানের দাবি, মার্চে একটি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলট জীবিত অবস্থায় কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং এরপর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে কাতার এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কাতারি বাহিনী কোনো জীবিত বিমানকর্মীকে আটক করে রাখেনি।
মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ইরানি পাইলটদের আটকের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলো কাতার দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করছে। একই সময়ে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তারা বিস্মিত বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের বক্তব্য এসেছে।
তেহরান থেকে ওই বিমানচালকদের মুক্তির দাবি জানানোর পর কাতারের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া আসে। ইরানের ফারস সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিন পাইলট আটকের দাবি করেন।
চিঠিতে বলা হয়, মার্চে এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান নামে তিন পাইলট জীবিত অবস্থায় আটক হন।
মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহের দাবি, ওই বিমানসেনাদের ছয় মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান ইরানি এই কর্মকর্তা।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, কাতারে তাদের একটি মিশনের পর একজন পাইলট নিহত এবং অন্যরা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে পাইলটদের আটকের বিষয়ে এর আগে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে দোহা জানিয়েছে, মার্চে অনুমোদনহীনভাবে কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশের পর কাতারি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ওই বিমানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। সতর্কবার্তার কোনো জবাব না পাওয়ার পর কাতারি বাহিনী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে জানিয়েছে তারা।
পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মাজিদ কাজেমি নামে এক পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে। তার মরদেহ ইরানে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় বলে জানিয়েছে কাতার।






















