ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ছাড়া আপাতত উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩ মনোনয়নপত্র জমা বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে বাংলাদেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নাজমুলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পাচ্ছে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন ভুয়া সংবাদের চেয়েও ক্ষতিকর ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য: ট্রাম্পকে আরাগচি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের অভিযোগ গঠন ১ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায় এবং তাদের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা যাচাই করতে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাদের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন বলে তিনি আশা করেন।

আরও পড়ুন  সবুজ ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকাশের জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন—নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এ শিক্ষা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বাধীন ছয় মাস বয়সী ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায় এবং তাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান দেশের সম্ভাবনার দিকগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শক্তি।

সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার সরকারের লক্ষ্য বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত হবে প্রধান চালিকাশক্তি।

এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ বলেও জানান তিনি। জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা আরও ভালো ধারণা পেয়েছেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের পুরো সরকারকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি, মুনাফা দেশে ও বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার কাজ করছে সরকার।

একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের কথা জানান তিনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফল সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য তার সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট সময় ০৬:২২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায় এবং তাদের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা যাচাই করতে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাদের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন বলে তিনি আশা করেন।

আরও পড়ুন  পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নীতিমালায় পরিবর্তন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকাশের জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন—নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এ শিক্ষা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বাধীন ছয় মাস বয়সী ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায় এবং তাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান দেশের সম্ভাবনার দিকগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শক্তি।

সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার সরকারের লক্ষ্য বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত হবে প্রধান চালিকাশক্তি।

এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ বলেও জানান তিনি। জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা আরও ভালো ধারণা পেয়েছেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের পুরো সরকারকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি, মুনাফা দেশে ও বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার কাজ করছে সরকার।

একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের কথা জানান তিনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফল সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য তার সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।