ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে এক মঞ্চে মমতা-সোনিয়া, আন্দোলনে ইন্ডিয়া জোট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জোটের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিল: পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলন

মমতার বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। বক্তব্য শেষে সোনিয়া তার পিঠে হাত রাখেন। পরে দুজনকে হাত মেলাতেও দেখা যায়।

বিরোধী জোটের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মমতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার দাবি, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তারা আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় বা মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ম মেনেই নেওয়া হয় বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগও তোলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এসব অভিযোগ বিরোধী জোটের রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বৈঠক থেকে আন্দোলনের আরও কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২ থেকে ৮ অক্টোবর বিভিন্ন এলাকায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সাংসদরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করবেন। এতে সব বিরোধী সাংসদকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, আন্দোলনে তরুণ, বিভিন্ন সংগঠন এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে এক মঞ্চে মমতা-সোনিয়া, আন্দোলনে ইন্ডিয়া জোট

আপডেট সময় ০২:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জোটের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  শপথ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ইশরাক হোসেন

মমতার বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। বক্তব্য শেষে সোনিয়া তার পিঠে হাত রাখেন। পরে দুজনকে হাত মেলাতেও দেখা যায়।

বিরোধী জোটের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মমতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার দাবি, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তারা আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় বা মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ম মেনেই নেওয়া হয় বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগও তোলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এসব অভিযোগ বিরোধী জোটের রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বৈঠক থেকে আন্দোলনের আরও কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২ থেকে ৮ অক্টোবর বিভিন্ন এলাকায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সাংসদরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করবেন। এতে সব বিরোধী সাংসদকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, আন্দোলনে তরুণ, বিভিন্ন সংগঠন এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।