ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের ঘন ঘন পেট খারাপের নেপথ্যে প্রেশার কুকার? র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর রোববার, থাকছে একাধিক কর্মসূচি হরমুজে বিকল্প করিডর হতে দেবেনা ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই: দিল্লি অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার নাইটক্লাবে হামলার অভিযোগে ইভান টনির বিরুদ্ধে মামলা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোক: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

ঘন ঘন পেট খারাপের নেপথ্যে প্রেশার কুকার?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কয়েকদিন পরপর পেটের সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় বাইরের খাবার বা পানিকে দায়ী করা হয়। তবে রান্নাঘরে ব্যবহৃত প্রেশার কুকারের রাবারের গ্যাসকেট নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও সেখানে খাবারের কণা, আর্দ্রতা ও ময়লা জমে জীবাণু বা ছত্রাক বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রেশার কুকারের ঢাকনার রাবারের গ্যাসকেট রান্নার সময় ভেতরের বাষ্প আটকে রাখতে সহায়তা করে। রান্নার সময় খাবারের ছোট ছোট কণা এই অংশে আটকে থাকতে পারে। অনেকেই কুকার পরিষ্কার করলেও গ্যাসকেট খুলে আলাদাভাবে পরিষ্কার করেন না। এতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আর্দ্রতা জমে থাকার সুযোগ তৈরি হয়।

ভারতের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা তরং কৃষ্ণার মতে, গ্যাসকেট অপরিষ্কার থাকলে সেখানে জীবাণু জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ফলে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে এই অংশটিও নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সপ্তাহে অন্তত একবার প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট খুলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিষ্কার করার পর গ্যাসকেট সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রেশার কুকার ধোয়ার পর ঢাকনা পুরোপুরি বন্ধ না রেখে কিছুটা খোলা অবস্থায় রাখা ভালো। এতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং গ্যাসকেটে আর্দ্রতা বা দুর্গন্ধ জমে থাকার ঝুঁকি কমে।

তবে গ্যাসকেট নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন ভারতের গ্রেটার নয়ডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. জগৎ জ্যোৎ সিংহ গিল। তাঁর মতে, প্রেশার কুকারে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না হওয়ায় অধিকাংশ জীবাণুর টিকে থাকার সুযোগ থাকে না।

তবে রান্নার পর গ্যাসকেট অপরিষ্কার বা ভেজা অবস্থায় থাকলে সেখানে ছত্রাক বা জীবাণু জন্মাতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরোক্ষভাবে খাবার দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ডা. জগৎ জ্যোৎ সিংহ গিল স্পষ্ট করেছেন, শুধু অপরিষ্কার গ্যাসকেটের কারণেই পেটে প্রদাহ বা হজমের সমস্যা হয়—এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

বর্ষাকালে আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া বা পরিবেশন করা, অপরিষ্কার বা দূষিত পানি পান, অপরিচ্ছন্ন রান্নার বাসন ব্যবহার, স্যাঁতসেঁতে রান্নাঘরের কাপড় এবং রান্নাঘরের অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পেটের অসুখের ঝুঁকি কমাতে সপ্তাহে অন্তত একবার প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট খুলে পরিষ্কার করা এবং ধোয়ার পর গ্যাসকেট ও কুকার ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষণের সময় কুকারের ঢাকনা কিছুটা খোলা রাখাও উপকারী হতে পারে।

এর পাশাপাশি রান্নার আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, রান্নাঘরের কাপড় ও বাসনপত্র পরিষ্কার রাখা এবং নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট পরিষ্কার রাখা ভালো অভ্যাস হলেও পেটের অসুখ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিরাপদ পানি পান করা এবং রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘন ঘন পেট খারাপের নেপথ্যে প্রেশার কুকার?

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কয়েকদিন পরপর পেটের সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় বাইরের খাবার বা পানিকে দায়ী করা হয়। তবে রান্নাঘরে ব্যবহৃত প্রেশার কুকারের রাবারের গ্যাসকেট নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও সেখানে খাবারের কণা, আর্দ্রতা ও ময়লা জমে জীবাণু বা ছত্রাক বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রেশার কুকারের ঢাকনার রাবারের গ্যাসকেট রান্নার সময় ভেতরের বাষ্প আটকে রাখতে সহায়তা করে। রান্নার সময় খাবারের ছোট ছোট কণা এই অংশে আটকে থাকতে পারে। অনেকেই কুকার পরিষ্কার করলেও গ্যাসকেট খুলে আলাদাভাবে পরিষ্কার করেন না। এতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আর্দ্রতা জমে থাকার সুযোগ তৈরি হয়।

ভারতের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা তরং কৃষ্ণার মতে, গ্যাসকেট অপরিষ্কার থাকলে সেখানে জীবাণু জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ফলে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে এই অংশটিও নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সপ্তাহে অন্তত একবার প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট খুলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিষ্কার করার পর গ্যাসকেট সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রেশার কুকার ধোয়ার পর ঢাকনা পুরোপুরি বন্ধ না রেখে কিছুটা খোলা অবস্থায় রাখা ভালো। এতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং গ্যাসকেটে আর্দ্রতা বা দুর্গন্ধ জমে থাকার ঝুঁকি কমে।

তবে গ্যাসকেট নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন ভারতের গ্রেটার নয়ডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. জগৎ জ্যোৎ সিংহ গিল। তাঁর মতে, প্রেশার কুকারে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না হওয়ায় অধিকাংশ জীবাণুর টিকে থাকার সুযোগ থাকে না।

তবে রান্নার পর গ্যাসকেট অপরিষ্কার বা ভেজা অবস্থায় থাকলে সেখানে ছত্রাক বা জীবাণু জন্মাতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরোক্ষভাবে খাবার দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ডা. জগৎ জ্যোৎ সিংহ গিল স্পষ্ট করেছেন, শুধু অপরিষ্কার গ্যাসকেটের কারণেই পেটে প্রদাহ বা হজমের সমস্যা হয়—এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

বর্ষাকালে আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া বা পরিবেশন করা, অপরিষ্কার বা দূষিত পানি পান, অপরিচ্ছন্ন রান্নার বাসন ব্যবহার, স্যাঁতসেঁতে রান্নাঘরের কাপড় এবং রান্নাঘরের অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পেটের অসুখের ঝুঁকি কমাতে সপ্তাহে অন্তত একবার প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট খুলে পরিষ্কার করা এবং ধোয়ার পর গ্যাসকেট ও কুকার ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষণের সময় কুকারের ঢাকনা কিছুটা খোলা রাখাও উপকারী হতে পারে।

এর পাশাপাশি রান্নার আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, রান্নাঘরের কাপড় ও বাসনপত্র পরিষ্কার রাখা এবং নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট পরিষ্কার রাখা ভালো অভ্যাস হলেও পেটের অসুখ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিরাপদ পানি পান করা এবং রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।