বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় সন্তানের ঘুম, উপকার নাকি ঝুঁকি
- আপডেট সময় ০৯:৩১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
সন্তানকে বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুম পাড়ানো নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মা-বাবার কাছাকাছি থাকা নিরাপত্তাবোধ ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা বিছানা বা ঘরে ঘুমানোর অভ্যাসও ধীরে ধীরে তৈরি করা প্রয়োজন।
সন্তান প্রতিপালনের প্রতিটি পর্যায়েই মা-বাবাকে নানা বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। খাবার, ঘুম ও স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশ এবং নিরাপত্তাবোধও তার বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে সন্তানকে কতদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেক অভিভাবকেরই কৌতূহল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে কতদিন মা-বাবার সঙ্গে ঘুমাতে হবে, তার জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। প্রতিটি শিশুর চাহিদা ও মানসিক প্রস্তুতি আলাদা। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বয়স অনুযায়ী কিছু সাধারণ নির্দেশনা অনুসরণ করা যেতে পারে।
শিশুর জীবনের প্রথম দিকে মা-বাবার কাছাকাছি থাকা তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে। রাতে কান্না বা অস্বস্তি হলে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হওয়ায় শিশুর মানসিক চাপও কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এক বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর বাড়তি যত্ন ও তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় শিশুকে মা-বাবার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো উচিত। এতে রাতে শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়।
এক থেকে তিন বছর বয়সে শিশুরা সাধারণত মা-বাবার সঙ্গে আবেগগতভাবে ঘনিষ্ঠ থাকে। রাতে ভয় পেয়ে জেগে ওঠা বা মা-বাবাকে খোঁজার মতো ঘটনা এ বয়সে দেখা যেতে পারে। এ সময় মা-বাবার উপস্থিতি শিশুকে আশ্বস্ত করতে পারে।
তিন থেকে ছয় বছর বয়সকে শিশুর জন্য পরিবর্তনের সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বয়সে শিশু ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত পরিসর সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে শুরু করে। তাই এ সময় থেকে তাকে পৃথক বিছানা বা ঘরে ঘুমানোর জন্য ধীরে ধীরে প্রস্তুত করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছয় বছর বা তার বেশি বয়সে শিশু যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে এবং মা-বাবাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাহলে তাকে আলাদা ঘরে ঘুমানোর অভ্যাস করানো যেতে পারে। এতে শিশুর স্বাধীনতা ও নিজস্ব বোধ বিকাশে সহায়তা করতে পারে।
তবে কোনো শিশুকে শুধু সামাজিক চাপের কারণে আলাদা করে ঘুমানোর অভ্যাস করানো উচিত নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শিশু ভয় পেলে, কাঁদলে বা বারবার মা-বাবার কাছে ফিরে এলে তাকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ আলাদা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর বয়স, চাহিদা ও মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও সন্তানের বিছানা আলাদা করার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসের কিছু বর্ণনায় সাত বছর বয়সে সন্তানের বিছানা পৃথক করার কথা বলা হয়েছে। আর ১০ বছর বয়স হলে পৃথক বিছানা করার বিষয়ে আরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
আমর ইবনু শুয়াইব (রহ.) পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদের সালাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স ১০ বছর হয়ে যাবে, তখন (সালাত আদায় না করলে) এ জন্য তাদের মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দেবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)
আবদুল মালিক বিন রাবি বিন সাবরাহ তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন সন্তানের বয়স সাত বছর হয়, তখন তার বিছানা আলাদা করে দাও।’ (দারা কুতনি, হাদিস : ৮৮৬)
এ হিসেবে সাত বছর বয়স থেকে সন্তানের বিছানা পৃথক করার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১০ বছর বয়স হলে বিছানা আলাদা রাখার বিষয়ে আরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সন্তানকে কখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে ঘুমাতে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্তে শিশুর বয়সের পাশাপাশি তার চাহিদা ও মানসিক প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আলাদা ঘুমানোর অভ্যাস শিশুর জন্য স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়।


























