স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষার্থী বিষপান
- আপডেট সময় ০৬:৪১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 20
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় একটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমানবোধ থেকে ওই শিক্ষার্থী বিষপান করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি গত সোমবার (২৮ জুলাই) উপজেলার রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না। এদিকে ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বরইভিটা গ্রামে। তিনি মুকসুদপুর উপজেলার ধর্মরায়ের বাড়ি এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। অপর ভুক্তভোগী যুবকের বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, কয়েকজন স্থানীয় যুবক দাবি করেন যে ওই ছাত্রী ও যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। এ ঘটনার জেরে ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং যুবককে তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আনা হয়। পরে তাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার, স্থানীয় যুবক জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক চাপে শিক্ষার্থী বিষপান করে। পরে তাকে প্রথমে রাহুথড় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
অভিযুক্ত নয়ন গোলদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার কয়েকজন যুবক ওই দুজনকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাদের বিদ্যালয়ে এনে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পারেন। বিদ্যালয়ের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























