মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই, সচেতনতা আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৫:০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 13
শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর পুষ্টি ও বৃদ্ধির প্রধান উৎস মায়ের বুকের দুধ। প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ পান করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিজারিয়ান প্রসবের হার বৃদ্ধি এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃদুগ্ধপানের গুরুত্ব তুলে ধরতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। এখন থেকে এক বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মানুষের সচেতনতা বাড়বে এবং শিশু মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক হবে।
শিশুখাদ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। বাজারজাত গুঁড়ো দুধের তুলনায় ঘরে তৈরি সুষম খাবার শিশুর জন্য বেশি উপযোগী। ছয় মাস বয়সের পর চালের খুদ, ডাল, আলু ও শাক-সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ির মতো খাবার শিশুদের জন্য উপযুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মায়েদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, মা যখন শিশুকে বুকের দুধ পান করান, তখন শিশুর নিরাপত্তাবোধও বাড়ে। তাই কৃত্রিম বিকল্পের পরিবর্তে প্রাকৃতিকভাবে মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির কথা ভেবে শিশুকে দুধ পান করানো বন্ধ রাখেন, যা ঠিক নয়। অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ না দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি পুষ্টিহীনতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























