ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
অটোমেক টু পয়েন্ট জিরো’র উদ্বোধন, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান শিমুল বিশ্বাসের স্পাইডারম্যানের নতুন রেকর্ড মরক্কো থেকে সেউতায় ঢোকার চেষ্টায় ৩৪ অভিবাসীর মৃ/ত্যু ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: ফখরুল আবারও বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাংলাদেশিদের ভিসা বাড়াতে তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির জুলাই সনদের আলোকে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে: আইনমন্ত্রী ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—বরিশালে তথ্যমন্ত্রীর জামায়াত নিষিদ্ধের ৩ দিনের মাথায় হাসিনার পতন: শফিকুর নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: ফখরুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্মের নামে বাংলাদেশে বিভাজন তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

মির্জা ফখরুল বলেন, এ ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করে সমাজে অস্থিরতা তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। সরকার একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের ভিত্তি ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নয়, নাগরিক পরিচয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিয়েছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।

সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাসও স্মরণ রাখতে হবে।

ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: ফখরুল

আপডেট সময় ০৭:১৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 

ধর্মের নামে বাংলাদেশে বিভাজন তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  থালাপতি বিজয়ের রাজনীতিতে প্রবেশ: শোবিজ ছেড়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান

মির্জা ফখরুল বলেন, এ ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করে সমাজে অস্থিরতা তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। সরকার একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের ভিত্তি ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নয়, নাগরিক পরিচয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিয়েছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।

সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাসও স্মরণ রাখতে হবে।

ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।