ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
অটোমেক টু পয়েন্ট জিরো’র উদ্বোধন, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান শিমুল বিশ্বাসের স্পাইডারম্যানের নতুন রেকর্ড মরক্কো থেকে সেউতায় ঢোকার চেষ্টায় ৩৪ অভিবাসীর মৃ/ত্যু ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: ফখরুল আবারও বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাংলাদেশিদের ভিসা বাড়াতে তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির জুলাই সনদের আলোকে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে: আইনমন্ত্রী ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—বরিশালে তথ্যমন্ত্রীর জামায়াত নিষিদ্ধের ৩ দিনের মাথায় হাসিনার পতন: শফিকুর নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—বরিশালে তথ্যমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ কিংবা পাহাড়ি ও সমতলের পরিচয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিভাজন তৈরির কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ধর্ম, মানবতা ও সৃষ্টিকর্তার মূল শিক্ষা পরিপন্থী।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলে সেটি ধর্মের মূল চেতনার বিরোধিতা। একইভাবে ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ বা গ্রাস করার কোনো উদ্যোগও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি ও ধর্মের পার্থক্য তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা, আর রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থ।

তিনি বলেন, রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্বপ্রাপ্ত নয়। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাও দেব-দেবী নন। জনগণ যতক্ষণ কোনো দলের বক্তব্য ও কর্মসূচিকে নিজেদের কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করবে, ততক্ষণ তারা তা গ্রহণ করবে। অন্যথায় জনগণ সেটি প্রত্যাখ্যান করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধর্ম পালনকারী মানুষ যখন ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিলকারীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা অর্থবহ হবে। নিজ নিজ ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চার মধ্য দিয়ে অন্য ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, কোনো মহল যখন ধর্মীয় অনুভূতিকে কৌশলে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করবে, তখন ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে ওই অপচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা রাজনীতিতে সব মানুষের সমান অধিকারের কথা বলেন, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তথ্যমন্ত্রী। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—বরিশালে তথ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৫:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 

ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ কিংবা পাহাড়ি ও সমতলের পরিচয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিভাজন তৈরির কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ধর্ম, মানবতা ও সৃষ্টিকর্তার মূল শিক্ষা পরিপন্থী।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  এপ্রিলে রেমিট্যান্স এলো ২৭৫ কোটি ডলার

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলে সেটি ধর্মের মূল চেতনার বিরোধিতা। একইভাবে ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ বা গ্রাস করার কোনো উদ্যোগও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি ও ধর্মের পার্থক্য তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা, আর রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থ।

তিনি বলেন, রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্বপ্রাপ্ত নয়। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাও দেব-দেবী নন। জনগণ যতক্ষণ কোনো দলের বক্তব্য ও কর্মসূচিকে নিজেদের কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করবে, ততক্ষণ তারা তা গ্রহণ করবে। অন্যথায় জনগণ সেটি প্রত্যাখ্যান করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধর্ম পালনকারী মানুষ যখন ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিলকারীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা অর্থবহ হবে। নিজ নিজ ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চার মধ্য দিয়ে অন্য ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, কোনো মহল যখন ধর্মীয় অনুভূতিকে কৌশলে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করবে, তখন ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে ওই অপচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা রাজনীতিতে সব মানুষের সমান অধিকারের কথা বলেন, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তথ্যমন্ত্রী। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।