হরমুজ নিয়ন্ত্রণে অনড় ইরান
- আপডেট সময় ১২:৪৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 33
কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জাহাজ চলাচলে ওমানের প্রস্তাবিত যৌথ ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে পুরো প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার শর্ত দিয়েছে ইরান।
ওমান হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও বাধ্যতামূলক টোল আরোপ ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে একটি যৌথ আঞ্চলিক কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছিল। গত শনিবার প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার আদলে তৈরি করা হয়েছিল। এতে জাহাজ থেকে স্বেচ্ছায় টোল আদায় করে তা নিরাপদ নৌ চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা বলা হয়।
তবে মঙ্গলবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাওয়াদি জানান, ওমানের প্রস্তাব দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
এর পরিবর্তে তেহরান দাবি করেছে, একটি শিপিং লেন পুরোপুরি এবং অন্য একটি লেনের আংশিক অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর সরাসরি নজরদারি করতে চায় দেশটি।
ইরান জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাইন আতঙ্কের কারণে আন্তর্জাতিক ‘ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম’ রুটটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। গারিবাওয়াদি বলেন, তারা ওই রুটকে আর স্বীকৃতি দেয় না এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তৃতীয় কোনো দেশকে সেখানে মাইন অপসারণের অনুমতিও দেওয়া হবে না।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়। পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় এটি আংশিক চালু হলেও, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়। টানা ১৩ দিন মার্কিন হামলার পর শুক্রবার থেকে প্রণালিটি আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাওয়াদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ওমানের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সামরিক হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, আলোচনা এগোচ্ছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রয়েছে। ২৮ জুলাইয়ের পর থেকে ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং চারটি জাহাজ আটক বা অচল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভের মতে, ওমানের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অবরুদ্ধ ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারত। তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সাধারণ ইরানিরা দুর্ভোগে পড়ছেন। তবে ইরান সরকারের কট্টরপন্থী অংশের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অবস্থানের কারণে ওই উদ্যোগ সফল হয়নি।

























